সাগরতলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি

গবেষকেরা সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ ধরনের টারবাইন ​স্থাপন করে বিদ্যুৎ​ উৎ​পাদন করেছেন
গবেষকেরা সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ ধরনের টারবাইন ​স্থাপন করে বিদ্যুৎ​ উৎ​পাদন করেছেন

আধুনিক জীবনযাত্রায় বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার প্রায় সব ক্ষেত্রেই। বিপুল পরিমাণ চাহিদার কারণে নানা উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির বহুল ব্যবহারের ফলে পরিবেশের গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন অনেক দিন ধরে।
সূর্যালোক ও বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিমধ্যে সাফল্য এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক বলেছেন, সাগরতলের স্রোত হতে পারে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাহীন উৎস। আর তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর প্রযুক্তিও তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন।
বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় আকৃতির যান্ত্রিক পাখা (টারবাইন) ব্যবহার করা হয়। এবার মার্কিন প্রতিষ্ঠান ক্রাউড এনার্জির গবেষকেরা গভীর সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ ধরনের টারবাইন স্থাপন করে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের যে সাফল্য পেয়েছেন, সেটি বিশ্বে প্রথম। আর সমুদ্রের স্রোত অফুরন্ত হওয়ার কারণে এটি নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে স্বীকৃত। নতুন এ পদ্ধতিতে অনন্তকাল ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।
ক্রাউড এনার্জির গবেষকেরা গভীর সমুদ্রের স্রোতকে কাজে লাগাতে তৈরি করেন ‘ওশেন এনার্জি টারবাইন’। এটি বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত টাইবাইনের চেয়ে আস্তে ঘোরে। তবে এ ঘূর্ণনের সময় যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়। আর ওশেন এনার্জি টারবাইনে তিন সেট পাখা থাকে। এগুলো অনেকটা দরজা-জানালার শাটারের মতো কাজ করে। এক দিক থেকে যখন স্রোত আসে, তখন শাটার খুলে যায়। কিন্তু বিপরীতমুখী স্রোতে শাটার বন্ধ হয়ে যায়। আর টারবাইনটি একটি দণ্ডকে ঘোরায় এবং একটি জেনারেটর সেই ঘূর্ণন থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করে।

টারবাইনের প্রতিটি পাখা (১০০ ফুট লম্বা) সাড়ে ​১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ​ উৎ​পাদন করতে পারে


গভীর সমুদ্রকে শক্তি উৎপাদনের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে ক্রাউন এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা টড জাংকা বলেন, সূর্যালোক ও বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সূর্য ও বাতাস নবায়নযোগ্য শক্তি হলেও নিরবচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু সমুদ্রস্রোত নিরবচ্ছিন্ন ও অফুরন্ত। ডুবোজাহাজে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, স্রোতের কারণে তাঁদের ডুবোযানকে তীরবর্তী নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়ে যেতে প্রচুর শ্রম ও শক্তি ব্যয় করতে হয়। সমুদ্রস্রোতের সেই প্রবল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা তখনই তাঁর মাথায় আসে।
গবেষকেরা বলেন, ওশেন এনার্জি টারবাইনের ১০০ ফুট লম্বা পাখার প্রতিটি সাড়ে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি আবাসিক বাড়ির চাহিদা মেটানো যেতে পারে। তাঁরা স্বীকার করেন, তাঁদের প্রযুক্তি এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। আর ওশেন এনার্জি টারবাইন ব্যবহারে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কাও নেই। কারণ, সাগরতলে ওশেন এনার্জি টারবাইনের ব্যবহারকে মিসিসিপি নদীতে প্যাডেলনির্ভর নৌকা চালানোর সঙ্গে তুলনা করা যায়। লাইভসায়েন্স