কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি পেশাগত নানা ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক বাসিন্দা দাবি করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবটের সহায়তা নিয়েই তিনি নিজের বাড়ি বিক্রি করেছেন। বাড়ি বিক্রির প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিপণন এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পুরো প্রক্রিয়াতেই তিনি চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি সিক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার বাসিন্দা রবার্ট লেভিন ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বাড়ি বিক্রির বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন। এতে বাড়ির বিজ্ঞাপন তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাড়ি দেখানোর সময়সূচি নির্ধারণের মতো কাজগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রবার্ট লেভিন জানান, বাড়ির বিপণনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচারসামগ্রী তৈরিতেও তিনি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন। সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সমন্বয় করতেও এই চ্যাটবট ব্যবহার করেন তিনি। এমনকি বিক্রয় চুক্তির একটি খসড়াও চ্যাটজিপিটির সহায়তায় প্রস্তুত করেন। তবে চুক্তিপত্রটি ব্যবহারের আগে একজন পেশাদার ব্যক্তির মাধ্যমে তা যাচাই করিয়ে নেন বলে জানিয়েছেন তিনি। লেভিনের দাবি, বাড়িটি বাজারে তালিকাভুক্ত করার পর প্রথম বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পাঁচটি ক্রয়প্রস্তাব পান। পরে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই বাড়ি বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, মূলত বাড়ি বিক্রির খরচ কমানোর উদ্দেশ্যেই তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
প্রযুক্তি খাতে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমর্থকের কাছে এটি এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝা বা বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট কার্যকর সহায়ক হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। গোপনীয়তা–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটবটে পুরো নাম, ব্যাংক–সংক্রান্ত তথ্য কিংবা বাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, অন্য যেকোনো অনলাইন সেবার মতোই এসব তথ্যও সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এ ছাড়া আইনগত নথি তৈরির ক্ষেত্রে চ্যাটবটকে কেবল প্রাথমিক সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো কখনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করতে পারে। অতীতে এমন ভুলের কারণে কিছু ব্যবহারকারী এমনকি আইনজীবীরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দিতে পারলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং মানবিক বিচক্ষণতার বিকল্প নয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের তত্ত্বাবধান এখনো অপরিহার্য।