লেখার সময় এআই টুল ব্যবহার করলে চিন্তা করার ও শেখার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে
লেখার সময় এআই টুল ব্যবহার করলে চিন্তা করার ও শেখার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে

এআই টুল গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে সহজেই বিস্তারিত লেখা যায়। তাই বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই–মেইল থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র লেখায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। লেখার সময় এআই টুলের ব্যবহার কীভাবে চিন্তা ও শেখার ওপর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে সম্প্রতি গবেষণা চালিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একদল গবেষক।

এমআইটি মিডিয়া ল্যাব পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবন্ধ লেখার সময় যাঁরা চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুলের ওপর নির্ভর করেছেন তাঁদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা এবং স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ৫৪ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর কয়েক মাস ধরে এই গবেষণা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন এলাকার বেশ কয়েকটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি সেশনে ২০ মিনিটের মধ্যে প্রবন্ধ লিখতে দেওয়া হয়েছিল। গবেষকেরা তাঁদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিমাপের জন্য ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

গবেষণার জন্য অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দল প্রবন্ধ লেখার জন্য সরাসরি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছে। দ্বিতীয় দল তথ্যের জন্য প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে। আর সর্বশেষ দল, কোনো ডিজিটাল সরঞ্জাম ছাড়াই প্রবন্ধ লিখেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা কোনো ডিজিটাল সরঞ্জামের সাহায্য ছাড়া প্রবন্ধ লিখেছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের সংযোগ বা কানেক্টিভিটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাঝারি মানের সক্রিয়তা দেখা গেলেও এআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ছিল সর্বনিম্ন। গবেষকদের মতে, বাহ্যিক সহায়তার পরিমাণ যত বেড়েছে, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ঠিক ততটাই কমে গেছে।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা। প্রবন্ধ লেখা শেষ হওয়ার পরপরই অংশগ্রহণকারীদের তাঁদের লেখা থেকে কিছু বাক্য বলতে বলা হয়। দেখা গেছে, এআইয়ের সাহায্য নেওয়া ৮৩.৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাঁদের লেখা প্রবন্ধ থেকে সঠিকভাবে কোনো বাক্য বলতে পারেননি। অথচ সার্চ ইঞ্জিন বা নিজস্ব চিন্তায় লেখা অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ছিল অনেক বেশি প্রখর। গবেষকেরা আরও লক্ষ করেন, যাঁরা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছেন, তাঁরা নিজেদের লেখার প্রতি একধরনের বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেছেন। তাঁদের মনে হয়েছে, এই লেখার ওপর তাঁদের কোনো স্বত্ব নেই।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া