ডিজিটাল অডিওনির্ভর আধেয় বা কনটেন্টের জগতে দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পডকাস্টের (অডিও অনুষ্ঠান) উপস্থিতি। পডকাস্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকাশিত নতুন পডকাস্টের প্রায় ৩৯ শতাংশই ‘সম্ভবত’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও নিয়মিত শ্রোতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, মানবিক সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনার জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে যান্ত্রিকভাবে তৈরি নিম্নমানের অনুষ্ঠান। আর তাই প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকে এ ধরনের পডকাস্টের নাম দিয়েছেন ‘পডস্লপ’।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অডিও অনুষ্ঠান দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোতে মৌলিকতা, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক সংযোগের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পডকাস্ট তৈরি করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হয়ে গেছে। নোটবুকএলএমের মতো বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তৈরি করা যাচ্ছে কৃত্রিম সঞ্চালকসমৃদ্ধ অডিও অনুষ্ঠান। ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কিছু তথ্যসূত্র দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই আলোচনা তৈরি করে দুই ভার্চ্যুয়াল উপস্থাপকের কথোপকথন সাজিয়ে দিতে পারে। চাইলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মন্তব্যও তাতে যুক্ত করতে পারেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমালোচকেরা বলছেন, এর ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে মানুষের সৃজনশীল অংশগ্রহণের ক্ষেত্র। বাস্তব মানুষের অভিজ্ঞতা, আবেগ, স্বতঃস্ফূর্ততা ও ব্যক্তিগত উপস্থাপনার জায়গায় অ্যালগরিদমনির্ভর ভাষা ও কণ্ঠ ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে ইনসেপশন পয়েন্ট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেনিন রাইট জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রতিদিন শত শত পডকাস্ট তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর গল্প বলাকে ‘ভবিষ্যতের গল্প বলার ধরন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কৃত্রিম চরিত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। কয়েক বছর আগেও এমন ধারণা অনেকের কাছে ব্যঙ্গাত্মক কল্পনা বলে মনে হতে পারত। কিন্তু বর্তমানে সেটিই দ্রুত বিস্তৃত হওয়া একটি বাণিজ্যিক খাতে রূপ নিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোন তথ্য নির্বাচন করছে, কোন তথ্য বাদ দিচ্ছে কিংবা কীভাবে বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করছে—এসব বিষয়ে ব্যবহারকারীরা স্পষ্ট ধারণা পান না। ফলে তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। অনেক নিয়মিত পডকাস্ট শ্রোতার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর উপস্থাপকদের কণ্ঠ বাস্তব মানুষের মতো শোনালেও কিছু সময় শুনলেই কৃত্রিমতার ছাপ ধরা পড়ে। উপস্থাপনার ধরন, কণ্ঠের ওঠানামা, কথার গতি ও সংলাপের বিন্যাসে একধরনের যান্ত্রিক একঘেয়েমি থাকে। বাস্তব মানুষের স্বাভাবিক আবেগ, রসবোধ, দ্বিধা, ভুল কিংবা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের অভাবও সহজেই বোঝা যায়।
সূত্র: টেক রাডার