
অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে একাধিক অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি ও মনে রাখা কষ্টসাধ্য হওয়ায় বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সহজ ও অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। কেউ আবার শক্তিশালী পার্সওয়ার্ড তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি পাসওয়ার্ড নিরাপত্তার দিক থেকে মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়। এতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইরেগুলারের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকেরা জনপ্রিয় তিনটি এআই মডেলের মাধ্যমে অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে ১৬ অক্ষরের একাধিক পাসওয়ার্ড তৈরি করেন। এরপর পাসওয়ার্ডের সঙ্গে প্রচলিত র্যান্ডম পাসওয়ার্ড জেনারেটরের তৈরি পাসওয়ার্ড তুলনা করা হয়। দেখা গেছে, এআই দিয়ে তৈরি পাসওয়ার্ডগুলো প্রথম দেখায় জটিল ও নিরাপদ মনে হলেও এগুলোর গঠনে নির্দিষ্ট কিছু ধরন বা প্যাটার্ন রয়েছে। পাসওয়ার্ডগুলোতে অক্ষর বা সংখ্যার পুনরাবৃত্তি, একই ধরনের বিন্যাসসহ নির্দিষ্ট অক্ষর বা সংখ্যার প্রতি পক্ষপাত লক্ষ করা গেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রায় অভিন্ন পাসওয়ার্ডও পাওয়া গেছে।
নিরাপদ পাসওয়ার্ডের প্রধান শর্ত হলো র্যান্ডমনেস, অর্থাৎ এলোমেলো সংখ্যা বা চিহ্ন দিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু এআই মূলত প্যাটার্ন শনাক্ত ও পূর্বানুমানের ভিত্তিতে কাজ করে। ফলে এআই যখন পাসওয়ার্ড তৈরি করে, তখন সেটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করে। এই সীমাবদ্ধতাই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সাইবার অপরাধীরা খুব দ্রুত অসংখ্য সম্ভাব্য পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করতে পারে। যদি পাসওয়ার্ডে কোনো পূর্বানুমানযোগ্য ধরন থাকে, তবে সেটি ভেঙে ফেলা আরও সহজ হয়ে যায়। তাই অনলাইনে নিরাপদ থাকতে ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোতে অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি নিম্নোক্ত প্রযুক্তিসুবিধা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার
বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী ও সম্পূর্ণ র্যান্ডম পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সব পাসওয়ার্ড নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে। ফলে ব্যবহারকারীর আলাদা করে মনে রাখার প্রয়োজন হয় না।
২. পাসকি প্রযুক্তি
পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসকি প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। পাসকিতে মূলত যন্ত্রের পরিচয় যাচাই করা হয়। ফলে পাসওয়ার্ড অনুমান বা চুরি করার সুযোগ থাকে না। এ কারণে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।
৩. দীর্ঘ পাসফ্রেজ
পাসওয়ার্ড সহজে মনে রাখার জন্য একাধিক র্যান্ডম শব্দ মিলিয়ে দীর্ঘ পাসফ্রেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি মনে রাখাও সহজ হয়। তবে এটি যেন পরিচিত বাক্য বা উদ্ধৃতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন–সুবিধা
পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন–সুবিধা ব্যবহার করতে হবে। এতে লগইনের সময় অতিরিক্ত একটি যাচাইকরণ ধাপ যুক্ত হয়, যা অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট