বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মাইক্রোস্কোপি ফটোগ্রাফিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও প্রতিযোগিতায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই এবার মর্যাদাপূর্ণ ‘নিকন স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন’ প্রতিযোগিতায় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত এক ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় আয়োজকেরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম লঙ্ঘন করায় প্রথম পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও সেই ভিডিও নির্মাতার পুরস্কার কেড়ে নিয়েছেন তাঁরা।
গত মাসে বার্ষিক নিকন স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন ভিডিও প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো বিজ্ঞানী নিং জু। কিন্তু তাঁর জমা দেওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে তীব্র সমালোচনা শুরু করেন বিজ্ঞনীরা। পরে নিকন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ভিডিওতে এআই ব্যবহারের সত্যতা খুঁজে পায়। এরপর নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিকন জানায়, ভিডিওটি জেনারেটিভ এআই সম্পর্কিত প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনে চলেনি। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে।
নিকনের তথ্যমতে, বিজ্ঞানী নিং জু যে ভিডিও জমা দিয়েছিলেন তাতে প্রাইমারি সিলিয়ারি ডিসকিসিয়া নামের একটি দুর্লভ জিনগত ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুর শরীরের কোষের ভেতরের চুলসদৃশ অংশ সিলিয়ার অস্বাভাবিক নড়াচড়া ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশের পর ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ফেলপসসহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী ভিডিওতে থাকা বিভিন্ন দৃশ্যের ত্রুটি খুঁজে বের করেন। এডওয়ার্ড দাবি করেন, ভিডিওতে দেখানো কিছু জৈবিক গঠন যেভাবে আচরণ করার কথা, সেভাবে করছে না।
বিজ্ঞানী নিং জু বলেছেন, সিলিয়া বা সেগুলোর গতি তৈরি করতে এআই ব্যবহার করা হয়নি। তবে একই ধরনের রূপমূল্য বা মরফোলজি থাকা গঠনগুলোকে আলাদা ও রঙিন করতে রি-কনস্ট্রাক্টেড গ্রে-স্কেল তথ্য প্রদর্শনের সময় এআই ব্যবহার করা হয়েছিল।
নিকন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার নিয়ম–কানুন এবং মূল্যায়নের পদ্ধতিগুলো তারা আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন