ক্রোম ব্রাউজার
ক্রোম ব্রাউজার

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত ক্রোম ব্রাউজার কি নিরাপদ

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে এখনো অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। আর তাই গুগলের তৈরি ক্রোম ব্রাউজার সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহ করলেও বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত ব্রাউজার হিসেবে দীর্ঘদিন জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ বব গার্লি জানিয়েছেন, ব্রাউজার নির্বাচন এখন আর নিছক প্রযুক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়।এটি সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। গোপনীয়তার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রাউজার হচ্ছে ক্রোম। ব্যবহারকারীদের প্রায় প্রতিটি অনলাইন কার্যকলাপই তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করে ব্রাউজারটি।

ক্রোম ব্রাউজার কোন কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে

ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং ইতিহাস, অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য, বুকমার্ক করা ওয়েবসাইটের তালিকা, আইপি ঠিকানা ও আনুমানিক ভৌগোলিক অবস্থানসহ নানা ধরনের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে থাকে ক্রোম ব্রাউজার। শুধু তা–ই নয়, সংরক্ষণ করা নাম, পাসওয়ার্ড, ঠিকানা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা তথ্যসহ যন্ত্রের ধরন ও অপারেটিং সিস্টেম–সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করে ব্রাউজারটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করা তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে চাইলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা যায়, যা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহার ও কেনাকাটার প্রবণতাসহ ব্যক্তিগত আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার

গুগলের তথ্যমতে, সংগৃহ করা তথ্য ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পূরণ, অনুসন্ধানের পরামর্শ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্তেও এসব তথ্য ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রোম ব্রাউজারের সংগ্রহ করা তথ্যগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে গুগলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইনকগনিটো মোডেও কি পুরো সুরক্ষা মেলে

অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলে তাদের অনলাইন কার্যকলাপ গোপন থাকে। বাস্তবে এই মোড ব্রাউজিং ইতিহাস বা কুকি স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ না করলেও ওয়েবসাইটগুলো আইপি ঠিকানা, আনুমানিক অবস্থান ও ব্যবহারকারীর আচরণ–সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক সংগ্রহ করতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারী যদি নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন অবস্থায় থাকেন, তাহলে ইনকগনিটো মোডেও কিছু তথ্য গুগলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ফলে এই মোডকে সম্পূর্ণ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট