নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সার্ভারে পাঠাতে থাকে স্মার্টফোন
নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সার্ভারে পাঠাতে থাকে স্মার্টফোন

ব্যবহারকারীদের অজান্তেই নিয়মিত তথ্য পাচার করে স্মার্টফোন, কেন

রাতে ঘুমানোর সময় বা দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে অনেকেই মনে করেন, স্মার্টফোন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বাস্তবে তা নয়। ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর আগে থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সফটওয়্যার নির্মাতাদের সার্ভারে পাঠাতে থাকে স্মার্টফোন। এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নর্ডভিপিএন জানিয়েছে, গোপনে পাঠানো এসব তথ্যের একটি অংশ প্রয়োজনীয় হলেও কিছু তথ্য ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ফোন সচল রাখা, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং অপারেটিং সিস্টেমে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা শনাক্তের জন্য নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ফোনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে আইএমইআই নম্বর, হার্ডওয়্যার সিরিয়াল নম্বর ও সিম–সংক্রান্ত তথ্য। এ ছাড়া ফোনের কর্মক্ষমতা ও সিস্টেমের অবস্থা বোঝার জন্য টেলিমেট্রি তথ্য, পুশ নোটিফিকেশন ও অপারেটিং সিস্টেম আপডেট যাচাই, সফটওয়্যার ত্রুটি বা ক্র্যাশ–সংক্রান্ত লগ এবং ইন্টারনেট সংযোগের ধরন–সম্পর্কিত তথ্যও প্রয়োজন হয়।

নর্ডভিপিএনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মারিজুস ব্রিডিস জানিয়েছেন, ফোন ব্যবহার করা না হলেও এ ধরনের তথ্য আদান–প্রদান প্রযুক্তিগতভাবে স্বাভাবিক। সিস্টেমের হেলথ মনিটর, সফটওয়্যার আপডেটের প্রিপারেশন, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা এবং বার্তা ও ইমেইল সিঙ্ক করার জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত কিছু তথ্য ব্যবহারকারীদের অজান্তে সংগ্রহ ও শেয়ার হতে থাকে। এসব তথ্য ফোনের মৌলিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে। এসব তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা যায়। ব্যবহারকারীর অবস্থান–সংক্রান্ত তথ্যও গোপনীয়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএস বন্ধ থাকলেও ফোন থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থান, আশপাশের ওয়াই–ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের তথ্য পাঠানো হতে পারে। এসব সংকেত বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা তৈরি করা সম্ভব।

ফোনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যানালিটিকস ও ডায়াগনস্টিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, কতক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে বা ফোনে নির্দিষ্ট কোনো সিস্টেম কার্যক্রম কখন ঘটছে এ ধরনের আচরণগত তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যগুলো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনদাতা বা অন্যান্য তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া হয় না। মূল উদ্দেশ্য থাকে ব্যবহারকারীর অভ্যাস ও আচরণের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা, যাতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো যায়।

সূত্র: জেডডিনেট