মেজরানা ২ কোয়ান্টাম চিপ
মেজরানা ২ কোয়ান্টাম চিপ

নতুন কোয়ান্টাম চিপ তৈরি করেছে মাইক্রোসফট

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মূল ভিত্তি কিউবিট। এই কিউবিট এমন সব জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা আজকের সাধারণ কম্পিউটারগুলোর পক্ষে অসম্ভব। আর তাই দীর্ঘদিন ধরেই কোয়ান্টাম চিপ তৈরির কাজ করছে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ‘মেজরানা ২’ নামের নতুন কোয়ান্টাম চিপ তৈরি করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন কোয়ান্টাম চিপটি আগের সংস্করণের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথকে সুগম করে তুলবে।

মাইক্রোসফটের তথ্যানুযায়ী, মেজরানা ২ চিপের কিউবিটগুলো মিলিসেকেন্ডের পরিবর্তে গড়ে প্রায় ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যা আগের মেজরানা ১ চিপের তুলনায় প্রায় ১ হাজার গুণ বেশি নির্ভরযোগ্য। নতুন এই চিপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে মাইক্রোসফট কোয়ান্টামের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলফি আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে ২০২৯ সালের মধ্যে এমন একটি কোয়ান্টাম যন্ত্র থাকবে, যা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর এবং যুক্তিসংগত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জন করতে আরও কাজ করতে হবে। কারণ, বাণিজ্যিকভাবে সফল কোয়ান্টাম যন্ত্র তৈরি করতে লাখ লাখ কিউবিটের প্রয়োজন হবে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, মেজরানা চিপের দ্বিতীয় প্রজন্মটি মূলত প্রথম চিপের একই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিজ্ঞানীরা এখানে সুপারকন্ডাক্টর বা অতিপরিবাহী হিসেবে অ্যালুমিনিয়ামের পরিবর্তে সিসা ব্যবহার করেছেন।

প্রসঙ্গত, মাইক্রোসফট দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে, যা টপোলজিক্যাল পদ্ধতি নামে পরিচিত। তাদের এই পদ্ধতি মূলত একটি তথাকথিত কোয়াসি-পার্টিকেলের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

সূত্র: বিবিসি