ব্ল্যাকহোলের প্রতীকী ছবি
ব্ল্যাকহোলের প্রতীকী ছবি

প্রথম আবিষ্কৃত ব্ল্যাকহোলের শক্তি ১০ হাজার সূর্যের সমান

মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে সিগনাস এক্স-১ ব্ল্যাকহোলকে একটি মাইলফলক বলা হয়। এটিই ছিল মহাবিশ্বের প্রথম নিশ্চিত হওয়া ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর। আবিষ্কারের ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো বিজ্ঞানীদের বিস্ময় জাগিয়ে চলেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত কণা বা জেট এতটাই শক্তিশালী যে তা ১০ হাজার সূর্যের সমান উজ্জ্বলতা বা শক্তি উৎপাদন করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা গত ১৮ বছরের রেডিও-টেলিস্কোপ পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত হয়েছে এ তথ্য। এ গবেষণায় ব্ল্যাকহোলের শক্তির নির্গমণপ্রক্রিয়া বা ড্যান্সিং জেট মেকানিজম সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ব্ল্যাকহোলটি থেকে নির্গত এই শক্তিশালী কণাগুলোর গতি আলোর বেগের প্রায় অর্ধেক। এই গতি ও শক্তির পরিমাণ মহাবিশ্বের গ্যালাক্সির বিবর্তনে ব্ল্যাকহোলের প্রভাব সম্পর্কে প্রচলিত তাত্ত্বিক ধারণাগুলোকে শক্তিশালী করেছে।

সিগনাস এক্স-১ সিস্টেমে একটি ব্ল্যাকহোল এবং একটি বিশাল সুপারজায়ান্ট নক্ষত্র একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছে। ব্ল্যাকহোলটির ভর আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ বেশি। এই নক্ষত্র ও ব্ল্যাকহোলটি প্রতি ৫ দশমিক ৬ দিনে একবার একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিভ রাজ প্রভু বলেন, সঙ্গী নক্ষত্র থেকে প্রবাহিত শক্তিশালী নাক্ষত্রিক বায়ু ব্ল্যাকহোলের জেটগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে সেগুলোর আকৃতি পরিবর্তন করে দেয়। এই বাঁকিয়ে যাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা জেটের শক্তি পরিমাপ করেছেন। এটি অনেকটা মহাজাগতিক পাল্লার মতো কাজ করেছে।

বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, ব্ল্যাকহোলের দিকে ধাবিত হওয়া বা ভেতরে পতিত হওয়া পদার্থের মোট শক্তির প্রায় ১০ শতাংশ এই শক্তিশালী জেটের মাধ্যমে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘকাল ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাকহোলের শক্তির গড় হিসাবের ওপর নির্ভর করতেন, কিন্তু এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তাৎক্ষণিক শক্তির নির্ভুল পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। এই আবিষ্কার জ্যোতিঃপদার্থবিদদের জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। যেহেতু মহাবিশ্বের বিশাল সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলগুলোর কার্যপদ্ধতিও প্রায় একই রকম, তাই সিগনাস এক্স-১ কৃষ্ণগহ্বরের এ তথ্য ব্যবহার করে সেগুলোর কম্পিউটার সিমুলেশন আরও নিখুঁত করা যাবে।

স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর ব্ল্যাকহোল জেট শনাক্ত ও পরিমাপ করতে নতুন কৌশল প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ফলে মহাবিশ্বের গঠন, নক্ষত্রমণ্ডলীর শকওয়েভ ও টালমাটাল পরিবেশের বিবর্তন সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া