বিশালাকার সমুদ্র যেন রহস্যের আধার। সমুদ্রের পুরোটাই বন্য আর গতিশীল। সেখানে বিভিন্ন প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। কিছু সামুদ্রিক পাখি উড়তে পারে, কোনোটি সাঁতার কাটে আবার কোনোটি ডলফিনের মতো পানির ওপর-নিচে মাতামাতি করে। পুরো সমুদ্রের পরিবেশ ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। উড়তে না পারা যেসব পাখি সমুদ্রনির্ভর, তাদের জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন প্রজাতির পেঙ্গুইনকে ভূমি থেকে অনেক দূরে খাবার সংগ্রহ করতে যেতে হয়। গহিন সমুদ্রের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করে পেঙ্গুইনরা। দৃশ্যমান কোনো ল্যান্ডমার্ক বা উপকূলের স্পষ্ট দৃশ্য ছাড়া এসব জায়গায় পেঙ্গুইনরা কীভাবে বাস করে, সমুদ্রের সাঁতার শেষে ফিরে আসে, তা আসলেই বড় এক রহস্য। নতুন এক গবেষণায় পেঙ্গুইনরা কীভাবে বাসা চেনে, সমুদ্রে চলাচল করে, তার তথ্য জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
জামার্নির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ারের বিজ্ঞানীরা পেঙ্গুইনের সমুদ্র অভিযানের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনরা বেশ শক্তিশালী সাঁতারু। এসব পেঙ্গুইন চালাক নাবিকদের মতো। দক্ষতার সঙ্গে ভ্রমণ করা বা শিকার শেষে ঠিকঠাক সমুদ্রের স্রোত বুঝে ঘরে ফিরে আসতে পারে। গবেষণার অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার সান মাটিয়াস উপসাগরে ২৭টি প্রাপ্তবয়স্ক পেঙ্গুইনের ওপর নজর রাখা হয়। বিজ্ঞানীরা সব পেঙ্গুইনের ওপর জিপিএস ও মোশন সেন্সর দিয়ে নজর রাখেন।
বিজ্ঞানীরা দৃশ্যমান ভূমির সংকেত কীভাবে পেঙ্গুইনরা ঘরে ফিরে আসে, তা জানার কাজ করেছেন। গবেষকেরা দেখছেন, পেঙ্গুইনরা স্রোতের শক্তির ওপর ভিত্তি করে কৌশল পরিবর্তন করে। যখন স্রোত শান্ত থাকে, তখন পেঙ্গুইনরা সরলরেখায় সাঁতার কাটে। শক্তিশালী স্রোতের প্রবাহকে অনুসরণ করে পেঙ্গুইনরা। তখন দীর্ঘতর পথ হলেও পেঙ্গুইনের শক্তি সাশ্রয় হয়। পেঙ্গুইনরা সর্বদা সংক্ষিপ্ততম পথ বেছে নেয় না বাড়ি ফিরতে। স্রোতের প্রবাহের ওপর নির্ভর করে তারা চলাচল করে। স্রোতের ধরন বদলে গেলে গতিপথ সংশোধন করে নিতে পারে পেঙ্গুইন। রিচার্ড মাইকেল গানার বলেন, পেঙ্গুইনরা তাদের পথ ও ভূমির স্থানচ্যুতির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। সেইভাবে গতি ও দিক সামঞ্জস্য করে নেয়। সোজা করে বাড়িতে সাঁতার কেঁটে আসার পরিবর্তে পেঙ্গুইনরা শক্তি সংরক্ষণ করে শিকারের লক্ষ্য সামঞ্জস্য করে। অনেক পেঙ্গুইন ১০ মিটারের বেশি সমুদ্রের গভীরে যায়। ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনরা খোলা সমুদ্র থেকে তাদের বাসায় ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে জোয়ারের স্রোতকে কাজে লাগায়।
দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করলেও পেঙ্গুইনের বাড়ি ফিরে আসার হার অবিশ্বাস্য নির্ভুল বলা যায়। কঠিন সমুদ্রের চলার পর ৮৫ শতাংশ ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইন তাদের প্রস্থান বিন্দুর ৯৮৪ ফুটের মধ্যে ফিরে আসে। ৩১ মাইল যাত্রায় এই ফিরে আসার হার ৯৯ শতাংশের বেশি। এমনকি যারা রাতে ফিরে আসে, তারাও একই রকম নির্ভুলতার সঙ্গে বাড়ি ফেরে। পেঙ্গুইনের জন্য কোনো দৃশ্যমান সংকেতের প্রয়োজন হয় না। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্তকরণ, ঘ্রাণশক্তির ব্যবহার বা ইনফ্রাসাউন্ডের মতো কম ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ পেঙ্গুইন ব্যবহার করে।
সূত্র: আর্থ