সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটি কথা প্রচলিত আছে—বিষুবের দিন পৃথিবীর সব জায়গায় দিন এবং রাত একদম সমান অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা দিন আর ১২ ঘণ্টা রাত থাকে; কিন্তু বিজ্ঞানের হিসাব কি তা–ই বলে? ২০ মার্চ বিষুবকে সামনে রেখে চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের কিছু মজাদার ও অজানা তথ্য।
বিষুব বা ইকুইনক্স কী
বছরে দুইবার সূর্য বিষুবরেখার ঠিক ওপর দিয়ে যায়। একবার মার্চ মাসে (মহাবিষুব), আরেকবার সেপ্টেম্বর মাসে (জলবিষুব)। লাতিন শব্দ ইকুইনক্স অর্থ হলো সমান রাত। পুরো বছর পৃথিবী সূর্যের দিকে কিছুটা হেলে থাকলেও বিষুবের দিন একদম সোজাসুজি অবস্থান করে। এই দিন থেকেই উত্তর গোলার্ধে বসন্তের শুরু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরতের আবাহন ঘটে। তাত্ত্বিকভাবে, এ সময় সূর্যের আলো উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমানভাবে পড়ে।
আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি—ইকুইনক্সে দিন-রাত সমান হয়; কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আপনি যদি সেকেন্ডের কাঁটা ধরে হিসাব করেন, তবে দেখবেন দিন ও রাত একদম নিখুঁতভাবে ১২ ঘণ্টা করে সমান হচ্ছে না। অধিকাংশ জায়গায় দিন রাতের চেয়ে কয়েক মিনিট বড় হয়; কিন্তু কেন এই গরমিল? এর পেছনে রয়েছে দুটি মূল কারণ:
১. সূর্যের বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অনেকটা প্রিজমের মতো কাজ করে। সূর্য যখন দিগন্তরেখার নিচে থাকে, তখন বায়ুমণ্ডলের কারণে এর আলো বেঁকে আমাদের চোখে আসে। ফলে সূর্য ওঠার কয়েক মিনিট আগেই আমরা দিনের আলো দেখতে পাই; আবার সূর্যাস্তের কয়েক মিনিট পর পর্যন্ত আলো থেকে যায়।
২. সূর্যের আকার: মহাকাশবিজ্ঞানে দিনের হিসাব করা হয় সূর্যের ওপরের প্রান্ত–দিগন্তরেখায় দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে সূর্যাস্তের সময় এর শেষ প্রান্ত অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত। যদি সূর্য একটি বিন্দুর মতো হতো, তবে দিন-রাত হয়তো সমান হতো; কিন্তু সূর্য একটি বিশাল থালার মতো হওয়ায় এর পুরোটা ডুবে যেতে সময় নেয়, যা দিনকে কিছুটা বড় করে দেয়।
তাহলে দিন-রাত সমান হয় কবে
আসলে দিন এবং রাত একদম সমান হয় ইকুইনক্সের কয়েক দিন আগে বা পরে। একে বলা হয় ইকুইলাক্স। অক্ষাংশভেদে এই তারিখ ভিন্ন ভিন্ন হয়। বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে দিন-রাত সমান হওয়ার এই মুহূর্তটি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
তথ্যসূত্র: আর্থস্কাই