অ্যান্টিম্যাটারের প্রতীকী ছবি
অ্যান্টিম্যাটারের প্রতীকী ছবি

প্রথমবারের মতো অ্যান্টিম্যাটার পরিবহনের পাত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা

অ্যান্টিম্যাটার মূলত মৌলিক কণা দ্বারা গঠিত পদার্থ যা স্বাভাবিক পদার্থ তৈরির প্রতিকণা। মহাবিশ্বে পদার্থের বিভিন্ন কণার জন্য একটি অ্যান্টিম্যাটার সংস্করণ রয়েছে যা ঠিক একই রকম হলেও তা বিপরীত বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত। প্রোটনের ধনাত্মক চার্জ থাকলে অ্যান্টিপ্রোটনের ঋণাত্মক চার্জ থাকে। পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল এই পদার্থ বহনের জন্য প্রথমবারের মতো দুই মিটার লম্বা বিশেষ ধরনের পাত্র তৈরি করেছেন সার্নের একদল বিজ্ঞানী।

নতুন এই পাত্র তৈরির ফলে ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণাগারে অ্যান্টিম্যাটার পরিবহন পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুরুতে এই পাত্র ব্যবহার করে অ্যান্টিম্যাটার জার্মানিতে অবস্থিত হাইনরিখ হাইন ইউনিভার্সিটি ডাসেলডর্ফে পাঠানো হবে। সার্নের গবেষণাগার থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, অ্যান্টিম্যাটার ধূলিকণার সংস্পর্শে অদৃশ্য হয়ে যায়। তাই এ পদার্থ পরিবহনের জন্য বিশেষ ধরনের পাত্র প্রয়োজন। নতুন তৈরি করা বিশেষায়িত পাত্রটিতে অ্যান্টিম্যাটারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য চৌম্বকীয় ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে। এই পাত্রের মাধ্যমে অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে আরও বেশিসংখ্যক বিজ্ঞানী গবেষণা করতে পারবেন।

পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল পদার্থ হচ্ছে অ্যান্টিম্যাটার। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী জিআর শ্মিট, হ্যারল্ড গেরিশ ও জেজে মার্টিন অ্যান্টিম্যাটারের দাম অনুমান করেছিলেন। তখনকার হিসাবে প্রতি আউন্স অ্যান্টিম্যাটারের দাম ধরা হয়েছিল ৬২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। পুরোনো সেই হিসাব অনুযায়ী নতুন পাত্রটিতে সাড়ে ৬২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি দামের অ্যান্টিম্যাটার বহন করা যাবে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: এনডিটিভি