অক্টোবরের প্রথম পাক্ষিক বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য চমৎকার কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত নিয়ে হাজির হবে। শরৎ শেষ হয়ে হেমন্তের আবহ শুরু হওয়ায় এ সময়ে সাধারণত বাংলাদেশের আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে। এর ফলে সন্ধ্যার পরে তারা ও গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে একাধিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাবে।
অক্টোবরের প্রথম পাক্ষিকে শনি গ্রহ সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বলভাবে রাজত্ব করবে। আর তাই সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পূর্ব–দক্ষিণপূর্ব আকাশে গ্রহটিকে স্পষ্ট দেখা যাবে। সময় যত গড়াবে, ততই গ্রহটি মাথার ওপরের দিকে উঠতে থাকবে এবং প্রায় সারা রাত আকাশে অবস্থান করবে। শনি গ্রহকে চেনার সহজ উপায় হলো এর স্থির ও সামান্য সোনালি জ্যোতি (এটি নক্ষত্রের মতো মিটমিট করে না)। ফলে সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করেই শনি গ্রহের বিখ্যাত বলয় এবং এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটান দেখা যাবে।
অক্টোবরের শুরুতেই সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে চোখ রাখলেই নজর কাড়বে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ। গোধূলির আলো মেলাতেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে এটি দেখা যাবে। ৩ ও ৪ অক্টোবরের দিকে শুক্র গ্রহ অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল তারাগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গ্রহটিকে পশ্চিম দিগন্তের কিছুটা ওপরে দেখা যাবে।
অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে চাঁদ বিভিন্ন রূপ ধারণ করবে, যা রাতের আকাশের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ৩ অক্টোবর চাঁদ শেষ চতুর্থাংশ অবস্থানে থাকবে। এই সময় চাঁদ মূলত মধ্যরাতের পর দেখা যাবে। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশ থাকবে অন্ধকার ও চাঁদের আলোমুক্ত, যা গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রমণ্ডল দেখার জন্য উপযুক্ত। ১০ অক্টোবর অমাবস্যা। এদিন আকাশে চাঁদের কোনো আলো থাকবে না। নিঝুম ও ঘন অন্ধকার আকাশ নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য সেরা পরিবেশ তৈরি করবে। ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর নতুন চাঁদ দেখা যাবে।
অক্টোবরের অন্যতম আকর্ষণ হলো ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি, যা প্রতিবছর অক্টোবরের শুরুর দিকে ঘটে থাকে। ৮ থেকে ৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এই উল্কাবৃষ্টি তার শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবে। সন্ধ্যা নামার পর উত্তর আকাশে (ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে) তাকালে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০টি হালকা ও দ্রুতগতির জ্বলন্ত উল্কা ছুটে যেতে দেখা যেতে পারে।
১০ অক্টোবর গ্রামীণ বা শহরের আলোমুক্ত পরিবেশে দুরবিন দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে একঝলক আবছা আলোর মেঘের মতো দেখা যাবে। এ সময় পূর্ব আকাশে ডানাওয়ালা কাল্পনিক ঘোড়ার আকৃতি পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের বিশাল চারকোনা তারাগুলো সহজেই চোখে পড়বে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর মাথার ঠিক ওপরে গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজের অংশ হিসেবে ভেগা, আলটায়ার ও ডেনেব নক্ষত্রত্রয়ী পশ্চিমের দিকে ঢলে পড়তে দেখা যাবে।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম