পৃথিবী
পৃথিবী

পৃথিবীর ৭০০ কিলোমিটার গভীরে পানির বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অনেক ধারণাই এখন বদলে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পৃথিবীতে পানির উৎস এবং এর বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক বৈজ্ঞানিক বিতর্ক। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সৃষ্টির শুরুর দিকে বরফাবৃত ধূমকেতুর আঘাতেই পৃথিবীতে পানির আগমন ঘটেছিল। তবে সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক গবেষণা এক ভিন্ন এবং বিস্ময়কর চিত্র তুলে ধরছে।

বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্য অনুযায়ী, আমাদের পায়ের নিচে পৃথিবীর ম্যান্টল স্তরে বিপুল পরিমাণ পানি জমা রয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গভীরে এই বিশাল জলরাশির অবস্থান। তবে এটি আমাদের পরিচিত তরল অবস্থায় নেই। ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির মতে, এই পানি খনিজ পাথরের ভেতরে আটকে আছে। এই গুপ্ত মহাসমুদ্রের আয়তন ভূপৃষ্ঠের সব সমুদ্রের সম্মিলিত জলরাশির চেয়েও বেশি হতে পারে।

গভীর তলদেশের এই জলরাশিকে রূপক অর্থে মহাসমুদ্র বলা হলেও এটি ভূপৃষ্ঠের সাগরের মতো মুক্ত নয়। বিএনএলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যান্টল স্তরের প্রচণ্ড চাপ ও চরম তাপমাত্রায় রিংউডাইট নামক এক বিশেষ উচ্চ চাপ খনিজ তৈরি হয়। পানি এই রিংউডাইটের স্ফটিক কাঠামোর ভেতরে রাসায়নিকভাবে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে।

গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে ম্যান্টল স্তরের পরিবেশ তৈরি করে দেখা গেছে, রিংউডাইট বিপুল পরিমাণ পানি নিজের ভেতরে শোষণ করে নিতে পারে। যখন পুরো ম্যান্টল স্তরের আয়তনের সঙ্গে এর তুলনা করা হয়, তখন পানির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় অকল্পনীয়। এই বিশেষ গঠনটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় পানিকে দীর্ঘকাল ধরে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম।

বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি ৭০০ কিলোমিটার গভীরে খনন করা অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষ পদ্ধতি, বিশেষ করে সিসমিক অ্যানালাইসিসের ওপর নির্ভর করেছেন। ভূমিকম্পের ফলে তৈরি হওয়া তরঙ্গ যখন পৃথিবীর অভ্যন্তর দিয়ে ভ্রমণ করে, তখন পাথরের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এর গতি পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু গভীরতায় এই তরঙ্গের গতি ধীর হয়ে যায়, যা সাধারণত খনিজের ভেতরে পানির উপস্থিতির লক্ষণ।

গবেষক শ্মান্ডট ও জ্যাকবসেনের মতে, এই সিসমিক তথ্যের পাশাপাশি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় গভীর ম্যান্টল থেকে উঠে আসা হীরার ভেতরে থাকা রিংউডাইটের নমুনাও এই মহাসমুদ্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। হীরার ভেতরে আটকে থাকা সেই রিংউডাইটের ক্ষুদ্র নমুনায় পরিমাপযোগ্য পরিমাণ পানি পাওয়া গেছে, যা তাত্ত্বিক ভবিষ্যদ্বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া