ঘুমানোর সময়ও পায়ের মাধ্যমে গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে বিভিন্ন পাখি
ঘুমানোর সময়ও পায়ের মাধ্যমে গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে বিভিন্ন পাখি

গাছের ডালে ঘুমানোর সময় পাখি কেন পড়ে যায় না

প্রকৃতির নিয়মে প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার কৌশল ভিন্ন। মানুষ ঘুমানোর সময় হাত বা শরীরের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেও ছোট পাখিরা নিজেদের পায়ের মাধ্যমে গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে। ফলে গাছের ডালে ঘুমানোর সময় ছোট পাখিরা কখনো নিচে পড়ে যায় না।

ছোট পাখিরা প্রধানত পারচিং বার্ড বা প্যাসারিন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এসব পাখির পা গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরার উপযোগী। এদের পায়ের সামনে তিনটি এবং পেছনে একটি আঙুল থাকে। পেছনমুখী এই আঙুলকে হ্যালুক্স বলা হয়। পাখি কোনো ডালে বসলে তার পায়ের জয়েন্টগুলো নিজে থেকেই বেঁকে যায়। এর ফলে পায়ের পেছনের টেন্ডন প্রসারিত হয় এবং আঙুলগুলো ডাল শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। করনেল ল্যাব অব অরনিথোলজির তথ্য অনুযায়ী, পাখি যখন পায়ের ওপর ওজন দেয়, তখন পেশিগুলো টেন্ডন শক্ত করে রাখে। ফলে ঘুমানোর সময় পাখিকে আলাদা করে ডাল ধরে রাখার কথা ভাবতে হয় না।

সব পাখি একই প্রক্রিয়ায় ডাল আঁকড়ে ধরে না। ফ্লেমিংগো বা বকের মতো কিছু পাখি একটি পায়ে ভর দিয়ে আরাম করতে পারে। ইউরোপীয় স্টার্লিং প্রজাতির পাখি ঘুমানোর সময় সব সময় আঙুল দিয়ে ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে না। তাদের পা জিনের মতো একটি স্থিতিশীল অবস্থানে থাকে। এর মাধ্যমে তারা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। করনেল ল্যাব অব অরনিথোলজির মতে, পাখিরা এক পা শরীরের কাছাকাছি গুটিয়ে রাখে এবং মাথা পেছনে গুঁজে দেয়। তাদের নরম পালক শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

বাতাসে ডাল দুললেও পাখি কেন পড়ে যায় না তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। ২০১৯ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়, পাখিরা ডালের নড়াচড়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ম্যান্ডারিন ডায়মন্ড বার্ড নিয়ে করা এক ডিজিটাল মডেলে গবেষকেরা বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন। তাঁদের মতে, হাড় পেশি ও টেন্ডন একসঙ্গে মিলে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করে। টেন্ডনের শক্তভাব ছোট ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে। এর ফলে সামান্য বাতাসেও পাখি নিরাপদে ঘুমাতে পারে।

কাঠঠোকরা বা টিয়ার পাখির পায়ের গঠন অন্য রকম হওয়ায় তাদের বসার ধরনও আলাদা। মানুষের মতো সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও পাখির শারীরিক গঠন তাদের নিরাপদে রাখে। এই চমৎকার শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য পাখিদের প্রকৃতির বুকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া