বিদায় নিচ্ছে ২০২১। করোনা মহামারিসহ নানা কারণে ঘটনাবহুল ছিল বছরটি। তবে কঠিন সংকটের মধ্যেও এ বছর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে নিজের ব্লগ ‘গেটসনোট’-এ গত মঙ্গলবার পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। পাশাপাশি ২০২২ সাল নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। আজ শেষ পর্ব।

আমার আগের বছর শেষের লেখায় লিখেছিলাম, আমি মনে করছি, আমরা পেছনে ফিরে তাকাতে সক্ষম হব। বলতে পারব যে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে উন্নতি হয়েছে। আমি মনে করি, এটা কোনো না কোনোভাবে সত্য। কোটি কোটি মানুষকে কোভিড-১৯-এর টিকা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব কিছুটা স্বাভাবিকের কাছাকাছি। তবে আমার আশা অনুযায়ী নাটকীয় উন্নতি হয়নি।
করোনার ডেলটা ধরন ও টিকা গ্রহণের চ্যালেঞ্জের কারণে আমরা এখন মহামারি অবসানের ততটা কাছাকাছি নেই, যতটা আমি আশা করেছিলাম। করোনার এই রকম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ধরন আসবে বলে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করিনি। টিকা নিতে ও মাস্কের ব্যবহার চালিয়ে যেতে লোকজনকে বোঝানো যে কতটা কঠিন হবে, সে বিষয়টি আমি অবমূল্যায়ন করেছি।
আমি আশাবাদী যে মহামারির অবসান অবশেষে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী করা বোকামি হতে পারে। তবে আমি মনে করি, মহামারির তীব্র পর্যায় ২০২২ সালে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হবে।
অমিক্রন যে উদ্বেগজনক ধরন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি সম্পর্কে আরও জানার জন্য গবেষকেরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। আমাদের কাছে শিগগির আরও অনেক তথ্য আসবে।
তবে আমরা যা জানি তা হলো মহামারির অন্য যেকোনো পর্যায়ের তুলনায় করোনার সম্ভাব্য ক্ষতিকর ধরনগুলো মোকাবিলার জন্য বিশ্ব আরও ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা যতটা আগে ডেলটা শনাক্ত করেছিলাম, তার চেয়ে দ্রুত এই ধরন শনাক্ত করেছি। প্রয়োজন পড়লে হালনাগাদ টিকা তৈরির জন্য আমরা আরও ভালো অবস্থানে আছি।
উদ্বেগজনক একটি নতুন ধরন আবির্ভূত হলে তা যেকোনো সময়ই সমস্যার বিষয়। তবে আমি এখনো আশাবাদী যে আগামী বছর কোনো এক সময় বেশির ভাগ জায়গায় কোভিড-১৯ একটি স্থানীয় রোগে পরিণত হবে। যদিও এটি বর্তমানে ফ্লুর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ প্রাণঘাতী। তবে টিকা ও অ্যান্টিভাইরাল এই সংখ্যাকে অর্ধেক বা তার বেশি কমাতে পারে। বিভিন্ন কমিউনিটি এখনো মাঝেমধ্যে প্রাদুর্ভাব দেখতে পাবে। তবে নতুন ওষুধ সহজলভ্য হবে, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাজ দিতে পারে। বাকি বিষয় হাসপাতালগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। আপনার ব্যক্তিগত ঝুঁকির মাত্রা যথেষ্ট কমবে। ফলে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে না। অফিসে গিয়ে কাজ করবেন কি না, আপনার বাচ্চাদের ফুটবল খেলতে যেতে দেবেন কি না বা থিয়েটারে সিনেমা দেখতে দেবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এটি মুখ্য চিন্তা হবে না। আমার আশা হলো যে কয়েক বছরের মধ্যে আপনি যখন প্রতি শরতে আপনার কোভিড ও ফ্লুর টিকা একসঙ্গে পাবেন, তখনই কেবল আপনার ভাইরাসটির কথা মনে হবে।
আমি এখনো আশাবাদী যে আগামী বছর কোনো এক সময় বেশির ভাগ জায়গায় কোভিড-১৯ একটি স্থানীয় রোগে পরিণত হবেবিল গেটস, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা
আমরা কোভিড-১৯-এর ব্যাপারে বিশ্বের সাড়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখতে পারি, যা পরবর্তী সময়ে আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলবে। আমরা টিকার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধন করেছি, তা অসাধারণ। বিশ্ব কোভিড-১৯-এর চেয়ে দ্রুত আর কোনো রোগের টিকা তৈরি ও বিতরণ করেনি। আমি মনে করি, এমআরএনএ টিকাগুলোকে শেষ পর্যন্ত মহামারির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে। এখন যেহেতু এমআরএনএ সুপ্রতিষ্ঠিত, তাই আমরা ভবিষ্যতে অতি দ্রুত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা তৈরি করতে সক্ষম হব।
সম্প্রতি আমাকে অনেক মানুষ জিজ্ঞাসা করেছে যে আমি এখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কি না। উত্তর হ্যাঁ হলেও আশাবাদী হওয়ার অর্থ সমস্যা উপেক্ষা করা নয়। আমি বিশেষ করে একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন।
মহামারি সুশাসনের জন্য একটা বড় পরীক্ষা। যখন মহামারির অবসান ঘটবে, তখন তা হবে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা ও উদ্ভাবনশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। একই সময় এই যুগ আমাদের দেখিয়েছে যে কীভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হ্রাস সুস্পষ্ট সমস্যা তৈরি করছে। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের প্রতি আস্থা কমার এই প্রবণতা ২০২০ সালে শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে যা ঘটে চলছে, সেটাই কেবল স্পষ্ট করে দিয়েছে মহামারি।
জলবায়ু বিপর্যয় এড়ানো বা পরবর্তী মহামারি প্রতিরোধের মতো চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে অগ্রগতি অর্জন করতে হলে আমাদের সরকারগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু আস্থা হ্রাস তাদের কার্যকর হওয়া কঠিন করে তোলে। যদি আপনার জনগণ আপনাকে বিশ্বাস না করে, তবে তারা বড় নতুন উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করবে না।
বিশ্বজুড়ে আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের প্রতি আস্থা কমার এই প্রবণতা ২০২০ সালে শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে যা ঘটে চলছে, সেটাই কেবল স্পষ্ট করে দিয়েছে মহামারি।
এর জন্য তাহলে কে বা কী দায়ী? এটা স্পষ্ট যে এ ক্ষেত্রে মেরুকরণ বৃদ্ধির বিষয়টি একটি তাৎপর্যপূর্ণ চালিকা শক্তি। ক্রমবর্ধমান বিভাজনের অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার সংবাদচক্র ও সামাজিক মাধ্যমের উত্থান। আমি বিশেষভাবে পরবর্তী বিষয়টি বুঝতে আগ্রহী।
সামাজিক মাধ্যম ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, যা মানুষকে তাদের সরকার সম্পর্কে সন্দেহপ্রবণ
করে তোলে।
আমরা ফাউন্ডেশনে ব্যবহার করতে পছন্দ করি, এমন একটি বুলি আছে: অগ্রগতি সম্ভব, কিন্তু তা অবশ্যম্ভাবী নয়। নানান দলের মানুষ একত্র ও কোনো বিষয়কে আরও ভালো করার সিদ্ধান্ত নেয় বলেই পরিবর্তন ঘটে। আপনি তা যত তাড়াতাড়ি চান বা প্রয়োজন, তত দ্রুত সেটি না-ও হতে পারে। কিন্তু যথেষ্ট স্মার্ট, চিন্তাশীল ও উত্সাহী লোকেরা যদি এর জন্য উদ্যোগী হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি আসবে।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলন এই বিষয়টি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে। জলবায়ু আলোচনা প্রায়ই মতবিরোধে আটকে থাকা একটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের শেষ বড় কপ সম্মেলনের তুলনায় গ্লাসগোতে উৎসাহ ও ব্যাপক ব্যস্ততা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আপনি যেখানেই তাকাবেন, দেখবেন, সারা বিশ্ব থেকে আসা নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সিইওরা সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহী।
২০১৫ সালের তুলনায় আমি সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন দেখেছি তা হলো উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব। ২০৫০ সালের মধ্যে নির্গমন শূন্যে পৌঁছানোর জন্য যেকোনো পরিকল্পনার অগ্রভাগে যে উদ্ভাবন থাকা দরকার, এখন সে বিষয়ে একটি ব্যাপকভিত্তিক উপলব্ধি এসেছে।
সংক্ষেপে এই সম্মেলন স্পষ্ট করেছে যে বিশ্ব কাজ করছে, অগ্রগতি অর্জন করছে। ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এসেছে। যেমন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের নতুন প্রতিশ্রুতি, মিথেন নির্গমন কমানোর অঙ্গীকার, বর্তমান দশকের শেষ নাগাদ বন উজাড় বন্ধের প্রতিশ্রুতি, কৃষকদের খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তার জন্য একটি জোট গঠন।
আমরা ফাউন্ডেশনে ব্যবহার করতে পছন্দ করি, এমন একটি বুলি আছে: অগ্রগতি সম্ভব, কিন্তু তা অবশ্যম্ভাবী নয়। নানান দলের মানুষ একত্র ও কোনো বিষয়কে আরও ভালো করার সিদ্ধান্ত নেয় বলেই পরিবর্তন ঘটে।
এই মহামারি যে ডিজিটালাইজেশন নিয়ে এসেছে, করোনা শেষ হওয়ার পরও তার বেশির ভাগই এখানে যে স্থায়ী হবে, তা স্পষ্ট। ডিজিটালাইজেশন এখানে স্থায়ী হওয়ার জন্য এলেও আমরা যে প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করছি, তা সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত হতে থাকবে।
ডিজিটালাইজেশনের ওপর মহামারির প্রভাবের পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা বুঝতে কমপক্ষে এক দশক সময় লাগবে। তবে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে আমরা তিনটি ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখতে পাব। প্রথম ও সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো অফিসের কাজ। দ্বিতীয় যে ক্ষেত্রটিতে আমরা ডিজিটালাইজেশনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখতে পাব, তা হলো শিক্ষা। চূড়ান্ত যে ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন স্থায়ী হওয়ার জন্য এসেছে, তা হলো স্বাস্থ্যসেবা।
আমার কাজ সব সময় একটি সাধারণ ধারণা দিয়ে চালিত হয়েছে: বিশ্ব আরও ভালো হতে পারে। অগ্রগতি যে সম্ভব, তা বিশ্বাস করা কঠিন করে তুলেছে মহামারির মতো একটি বড় ধাক্কা। প্রত্যেকের একটি স্বাস্থ্যকর ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ রয়েছে, এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আমি এখনো আশাবাদী। কিন্তু সেই সক্ষমতা নির্ভর করছে আমরা পরবর্তী মহামারিকে থামাতে পারব কি না, তার ওপর। এখনই সময় আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার। এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আর যাতে না হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার।
ভালো খবর হলো, একটি মহামারি প্রতিরোধ যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আর বিশ্বকে বোঝাতে হবে না। আমি আশাবাদী যে আমরা মহামারি প্রস্তুতির প্রচেষ্টায় বড় সমর্থন দেখতে পাব। আমি তাদের পক্ষ সমর্থনের জন্য অনেক সময় ব্যয়ের পরিকল্পনা করছি। এটাই সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা নিয়ে আমি ২০২২ সালে কাজ করতে যাচ্ছি।
আমি মনে করি, আমরা ২০২২ সালেও আশাবাদের জন্য প্রচুর অন্যান্য কারণ দেখতে পাব, বিশেষ করে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে।
আমি যেসব বিষয় অনুসরণ করার ব্যাপারে সবচেয়ে উদ্দীপিত, তার মধ্যে একটি হলো এইচআইভি ঠেকানোর ওষুধ ইসলাট্রাভির আশাবাদী হওয়ার মতো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের প্রথম ফলাফল এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হয়েছে। এই ফলাফল এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত। আমি পরের বছর আরও ভালো কিছু দেখার জন্য উন্মুখ। পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অগ্রগতি অনুসরণ করছি।
২০২২ সালে দেখার জন্য আরেকটি ক্ষেত্র হলো আলঝেইমার ডায়াগনস্টিক। সম্প্রতি এই ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। আমি ব্রেকথ্রু এনার্জি ভেঞ্চারস, ক্যাটালিস্ট ও ফেলোর কাজ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উন্মুখ হয়ে আছি, যাতে ক্লিন-এনার্জির উদ্ভাবনগুলো সবার জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হয়।
আমি মনে করি, আমরা ২০২২ সালেও আশাবাদের জন্য প্রচুর অন্যান্য কারণ দেখতে পাব, বিশেষ করে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে।
আমি কখনোই নতুন বছর সামনে রেখে লক্ষ্য ঠিক করা মানুষ ছিলাম না। ২০২২ সালের জন্য আমার মনে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই (যদিও আমি মনে করি যে এ নিয়ে ভাবার জন্য আমার কাছে আরও কিছুটা সময় আছে)। তবে আমি যা আশা করি তা হলো, আগামী বছর এই বছরের চেয়ে অনেক বেশি বিষয়ের মীমাংসা হবে।
মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন প্রতিরোধী। জীবনযাপনের নতুন উপায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কখনোই সহজ নয়। আমি মনে করি, ২০২২ সাল এমন একটি বছর হবে, যখন আমাদের মধ্যে অনেকেই শেষ পর্যন্ত মহামারি-পরবর্তী নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় থিতু হবে। আমার জন্য এর অর্থ হলো, আরও কিছুটা বেশি অফিসে যাওয়া। কারণ, কোভিড সংক্রমণ কমে যাবে বলে আশা করা যায়। আমি আশা করি, আপনি ও আপনার প্রিয়জনেরাও নতুন রুটিন তৈরি করার উপায় খুঁজে পাবেন। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে মহামারি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন তৈরি করবে, যা পুরোপুরি বুঝতে কয়েক বছর লাগবে, যা ভীতিকর মনে হতে পারে।
আমার প্রিয় লেখকদের একজন ইউভ্যাল নোয়া হারারি একবার লিখেছিলেন, ‘মানুষ সাধারণত পরিবর্তনকে ভয় পায়। কারণ, তারা অজানাকে ভয় পায়। কিন্তু ইতিহাসের একক সর্বশ্রেষ্ঠ অপরিবর্তনীয় বিষয় হলো সবকিছু বদলে যায়।’
বিশ্ব আগেও বড় বড় পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। আমরা তা আবার করব।
সংক্ষেপিত ভাষান্তর: সাইফুল সামিন