
বিশ্বের চরম দরিদ্র দেশগুলোর সারিতে ভারতকে ছাপিয়ে গেছে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। আনুমানিক ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বা দেশটির অর্ধেক জনসংখ্যা চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। গড়ে তাদের দৈনন্দিন আয় ১ দশমিক ৯০ ডলারেরও কম বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনএনের।
এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্বের ৬৪ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আফ্রিকার অধিবাসী। অনুসন্ধানটির ভিত্তি ওয়ার্ল্ড পোভার্টি ক্লকের দেওয়া চিত্র ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের করা সংকলন।
গবেষকেরা লিখেছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ আফ্রিকার দেশগুলোর এই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৩২ লাখ বাড়বে।
আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও নাইজেরিয়া তাদের সম্পদ ব্যবহার করে জীবনমান উন্নয়নে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও তেল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় ২০১৬ সালে দেশটির অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়।
সম্প্রতি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতি চাঙা করতে সাহায্য করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানায়, যদিও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, তারপরও নাইজেরিয়াকে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করায় আরও অনেক কিছু করতে হবে।
নাইজেরিয়াতে যেখানে প্রতি মিনিটে আনুমানিক ছয়জন চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, সেখানে ভারতে দারিদ্র্য কমছে।
বর্তমানে ভারতে ৭ কোটি ১৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ
গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকার ১৮টি দেশের মধ্যে ১৪টিতে দারিদ্র্য বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের দরিদ্র মানুষের ৯০ শতাংশই হবে এই মহাদেশের।
চরম দারিদ্র্যপীড়িত প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোর বাইরে কেবল বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাম রয়েছে। এই দুই দেশে যথাক্রমে ১ কোটি ৭০ লাখ ও ১ কোটি ৪২ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কঙ্গো (৬ কোটি), ইথিওপিয়া (২ কোটি ৩৯ লাখ), তাঞ্জানিয়া (১ কোটি ৯৯ লাখ), মোজাম্বিক (১ কোটি ৭৮ লাখ), কেনিয়া (১ কোটি ৪৭ লাখ), উগান্ডা (১ কোটি ৪২ লাখ)।
গবেষকেরা বলছেন, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেখা গেছে, বিশ্বে ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমা কাটিয়ে উঠেছে। এটি ২০৩০ সাল নাগাদ দারিদ্র্য দূরীকরণের আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কর্মসূচি গৃহীত হওয়ার সুফল।