দিল্লির উপকণ্ঠের গাজিয়াবাদের এই আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নয়তলা থেকে তিন বোন লাফিয়ে মারা যায়। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নয়াদিল্লি
দিল্লির উপকণ্ঠের গাজিয়াবাদের এই আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নয়তলা থেকে তিন বোন লাফিয়ে মারা যায়। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নয়াদিল্লি

গাজিয়াবাদে আত্মহত্যা করা তিন বোনের বাবার ২ কোটি রুপি ঋণ আছে: পুলিশ

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গাজিয়াবাদে বহুতল ভবনের নয়তলা থেকে পড়ে ১৬ বছরের কম বয়সী তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে। গাজিয়াবাদের অবস্থান দিল্লির উপকণ্ঠে।

বুধবার সকালে মেয়েদের বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাচ্চারা একটি কোরীয় গেম খেলছিল। সেই গেমে তাদের কিছু কাজ (টাস্ক) দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ টাস্কটি ছিল আত্মহত্যা করা।

তবে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ এই গেমের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেয়। পুলিশ জানায়, তিন বোন তাদের বাবা-মায়ের মুঠোফোনে সারাক্ষণ কোরীয় নাটক দেখত।

পুলিশের মতে, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ কোরীয় নাটকের প্রভাব থাকলেও এই পরিবারের আরও বড় সমস্যা ছিল—বিপুল অঙ্কের ঋণ।

মেয়েদের বাবা চেতন কুমার শেয়ারবাজারের একজন বিনিয়োগকারী। পুলিশের তথ্যমতে, তাঁর ওপর ২ কোটি রুপি ঋণের বোঝা ছিল। এমনকি বিদ্যুতের বিল মেটানোর জন্য তিনি মেয়েদের মুঠোফোন পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যেই মেয়েদের হুমকি দিতেন, তাদের বিয়ে দিয়ে দেবেন।

গত সপ্তাহে চেতন কুমার মেয়েদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। ১৬ বছর বয়সী নিশিকা, ১৪ বছরের প্রাচী এবং ১২ বছরের পাখি বাবার এই সিদ্ধান্তে খুব মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছিল। কারণ, তারা মুঠোফোনে কোরীয় নাটকে বুঁদ হয়ে থাকত।

চেতন কুমারের দুজন স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর আপন বোন। প্রথম পক্ষের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় পক্ষের এই তিন মেয়ে ছিল। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে করোনার পর তিনি মেয়েদের আর স্কুলেও পাঠাননি।

এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীর ১৪ বছরের ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, যা পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রতিবেশীরা বিকট শব্দ শুনতে পান। প্রত্যক্ষদর্শী পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা অরুণ সিং জানান, তিনি বারান্দা থেকে দেখেছিলেন, বড় মেয়েটি কার্নিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুই বোন তাকে টেনে ধরার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে সবচেয়ে ছোট মেয়েটি বড় বোনের কোমর জড়িয়ে ধরে এবং অন্যজন হাত ধরে থাকে; এভাবেই তিনজন নিচে পড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স আসতে এক ঘণ্টা দেরি হয়েছিল।

তদন্তে কী পাওয়া গেল

পুলিশ মেয়েদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সেখানে সিনেমার সংলাপ ও কবিতার মতো কিছু লেখা পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের ছবি গোল করে সাজানো ছিল। একটি ৮ পাতার ডায়েরি পাওয়া গেছে, যেখানে লেখা ছিল—‘বাবা-মা যেন এটা পড়ে, কারণ সব সত্যি।’

কক্ষে একটি মুঠোফোনও পাওয়া যায়। এটির ওয়ালপেপারে তিন বোনের ছবি ছিল। এতে তারা নিজেদের জন্য পছন্দ করা কোরীয় নাম লিখে রেখেছিল। পুলিশ সেখানে কোনো প্রাণঘাতী গেমের প্রমাণ এখনো পায়নি।

তিন বোনের বাবা পুলিশকে বলেছিলেন, গাজিয়াবাদে বসবাস শুরুর আগে তিনি উত্তর–পূর্ব দিল্লির খাজুরি খাস এলাকায় থাকতেন।

তবে ২০১৭ সালের ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর মতো ঘটনার সঙ্গে এর কিছুটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। ওই সময় মুম্বাইয়ে ১৪ বছরের এক কিশোর ওই গেম খেলে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল।