মধ্যচীনের এক ব্যক্তি খাওয়ার জন্য হাঁস জবাই করেছিলেন। এরপরই ঘটল আসল চমক। হাঁসের পেটে খুঁজে পেয়েছেন সোনা। বিরল এই প্রাপ্তি অতীতের সোনা খোঁজার উন্মাদনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে হুনান প্রদেশের লংহুই কাউন্টিতে লিউ নামের ওই ব্যক্তি হাঁসের পেটে সোনার টুকরাগুলো পেয়েছিলেন।
চীনের মূল ভূখণ্ডের সংবাদমাধ্যম জিনওয়েনফ্যাং জানিয়েছে, আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এগুলো আসল সোনা। এর ওজন প্রায় ১০ গ্রাম এবং মূল্য প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান (১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার)।
লিউয়ের বাবার মতে, এটি তাঁদের আগামী বছরের জন্য একটি শুভ লক্ষণ।
লিউ জানান, হাঁসগুলোকে একটি নদীর ধারে উন্মুক্ত অবস্থায় পালন করা হতো। ওই নদী একসময় সোনা তোলার জন্য বিখ্যাত ছিল।
সম্ভবত নদীর কাদার সঙ্গেই হাঁসগুলো সোনার টুকরা গিলে ফেলেছিল।
প্রাণী বা মানুষের শরীর সোনা হজম বা শোষণ করতে পারে না। সাধারণত এটি কোনো ক্ষতি না করেই পরিপাকতন্ত্র দিয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।
তবে সোনার টুকরা বড় বা ভেজালযুক্ত হলে তা মানুষ ও প্রাণী উভয়ের জন্যই বিপদের কারণ হতে পারে। এর ফলে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়া বা বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
লিউয়ের এই সোনা পাওয়ার ঘটনাটি কিন্তু একেবারে নতুন কিছু নয়।
লিউ জানান, এর আগে অন্য গ্রামবাসীও হাঁসের পেটে সোনা পেয়েছেন। তবে তাঁর মতো এত বেশি পরিমাণ সোনা আর কেউ পাননি।
অবশ্য নেটিজেনদের কেউ কেউ এ ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
লংহুই কাউন্টির প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যুরো জিউপাই নিউজকে জানিয়েছে, টুকরাগুলো সত্যিই সোনার কি না, তা নিশ্চিত হতে কোনো পেশাদার প্রতিষ্ঠান দিয়ে এটি যাচাই করতে হবে।
তবে সরকারি কর্মীরা বলছেন, এমন কিছু পাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব নয়। গত বছরও একই নদীর বালু ধোয়ার সময় গ্রামবাসী ১০ গ্রামের বেশি সোনা পেয়েছিলেন।
কাউন্টির চেনশুই নদীটি উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। একসময় এই নদীতেই সোনা পাওয়া যেত।