
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ ঘটানোর জন্য দায়ী মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিচারে দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার ১৩০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার ওই সাংসদেরা এই আহ্বান জানান।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুরের ১৩২ জন সাংসদ যৌথ বিবৃতিটি দিয়েছেন।
বিবৃতি দেওয়া সাংসদেরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, তাঁরা যাতে মিয়ানমারের নৃশংস ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নজরে আনেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদ সই করেনি মিয়ানমার। এ কারণে দেশটির বিরুদ্ধে আইসিসির মামলা পরিচালনার এখতিয়ার নেই। তবে একমাত্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদই রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে আইসিসিকে দিয়ে তদন্ত শুরু করাতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান শুরুর এক বছর পার হয়েছে। অথচ এই ঘটনায় দায়ীদের এখন পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এ ব্যাপারে মিয়ানমার যেমন আগ্রহী নয়, তেমনি তারা নিজেরা তদন্তে অপারগ। এখন এমন এক অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু তল্লাশিচৌকিতে কথিত সন্ত্রাসী হামলার জেরে গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে নৃশংস অভিযান শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও গণধর্ষণ করা হয়। হামলায় হাজারো রোহিঙ্গা প্রাণ হারায়। অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।