
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আওতায় বর্তমানে যেসব বিধিনিষেধ কার্যকর আছে, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। কাল বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় গত ১৮ জুলাই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তখনকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে। এরপর ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন পেশাদারদের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনসের (ওপিএ) ৩৫তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিক্রমাসিংহে। তিনি তখন বলেন, ‘আমি জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াব না। ১৮ আগস্ট এটি শেষ হবে।’
এদিন দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করলেও বিক্রমাসিংহে বলেছেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘পার্লামেন্টকে সরকারে পরিণত করতে চাই আমরা। আমাদের একটি পর্যবেক্ষক কমিটি থাকবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনার উপায় ও করণীয় নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি কমিটিতে পার্লামেন্টের বাইরের তরুণ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হবে। সব দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পরিষদও গঠন করব আমরা।’
প্রবাসীরা যেন দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে একটি প্রবাসী কার্যালয় খোলারও ঘোষণা দিয়েছেন বিক্রমাসিংহে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মনে করেন, তাঁর দেশের বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমান পার্লামেন্ট থেকে এ পরিবর্তন আসতে হবে। তা না হলে ওপিএ আজকের মতো এমন একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন আর করতে পারবে না।
শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত ১৩ জুলাই মালদ্বীপে পালিয়ে যান দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এর এক দিন পর রাজাপক্ষে মালদ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুর চলে যান।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পরপরই শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান রাজাপক্ষে। ১৫ জুলাই শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। এরপর গত ২০ জুলাই পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।