
অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’ এবং দলটির প্রধান পলিন হ্যানসনের বর্ণবাদী রাজনৈতিক অবস্থান, অভিবাসীবিরোধী নীতি ও শিক্ষা বাজেটে কাটছাঁটের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানানো এবং বর্ণবাদী ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক অবস্থান নেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষ বর্জন করে এ আন্দোলনের ডাক দেন।
ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের (এনইউএস) আহ্বানে আজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, ক্যানবেরাসহ প্রধান প্রধান শহরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্লাস বর্জন করে এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের মতো সিডনির টাউন হলের সামনে আজ দুপুরের পর থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নানা স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
গণমাধ্যমে এনইউএসের সভাপতি ফিলিক্স হিউজ বিক্ষোভের কারণ ও লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কমানো, শিক্ষার্থীদের ঋণবৃদ্ধি এবং বাসস্থানের সংকট দূর করার বদলে পলিন হ্যানসন অভিবাসীদের ওপর দায় চাপিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের এই পদযাত্রা কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি এক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী বলেন, ‘অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে রাজনীতি করছেন পলিন হ্যানসন। আমরা শিক্ষা ও সমাজের সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি।’
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের এই বর্জন কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেছেন পলিন হ্যানসন। তিনি এক বার্তায় বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখানো উচিত, কীভাবে চিন্তা করতে হয়। কী চিন্তা করতে হবে—তা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। যদি প্রতিবাদ করতেই হয়, তবে অভিভাবকদের বেতন কেন কমছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কেন বাড়ছে—সেসব বিষয় নিয়ে আন্দোলন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে লিবারেল ন্যাশনাল পার্টির সংসদ সদস্য বার্নাবি জয়েস শিক্ষার্থীদের এই পদযাত্রাকে প্রথাগত আন্দোলন না বলে শিক্ষক ও সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোর উসকানি বলে দাবি করেছেন।
বিপরীতে গ্রিনস পার্টির সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ শিক্ষার্থীদের এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণেরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের অধিকার নিশ্চিত করতে রাজপথে নেমেছেন।
রয় মরগানের সর্বশেষ জনমত জরিপে ওয়ান নেশনের সমর্থন বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর তরুণ অস্ট্রেলীয়দের এই সমন্বিত বিক্ষোভ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।