ইরানের নারী ফুটবল দলের দুই সদস্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
ইরানের নারী ফুটবল দলের দুই সদস্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।

সিডনিতে আশ্রয়প্রার্থী ইরানি ফুটবলারের মত পরিবর্তন, ফিরে যাচ্ছেন ইরানে

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের সদস্যদের ঘিরে নতুন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এই খবরটি ঢালাওভাবে প্রচারিত হচ্ছে। গোল্ড কোস্টের হোটেল থেকে পালিয়ে যাওয়া ও আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়া সদস্যদের মধ্যে একজন শেষ পর্যন্ত ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক আজ বুধবার পার্লামেন্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় মোহদ্দেসেহ জোলফি আজ সকাল ১০টার কিছু পরে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানান।

জোলফি গতকাল মঙ্গলবার রাতে আশ্রয়ের অনুমতি পেলেও পরে অন্য সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে মত পরিবর্তন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক পার্লামেন্টে বলেন, ওই খেলোয়াড় তাঁর সতীর্থ ও প্রশিক্ষকদের পরামর্শে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যেন তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যে কেউ নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার রাখেন এবং সরকার সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়।

বার্ক বলেন, ওই খেলোয়াড় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় এক ভয়াবহ নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ, এর ফলে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন অন্যান্য আশ্রয়প্রার্থী খেলোয়াড়ের গোপন অবস্থান সম্পর্কে জেনে গেছে।

এই ঘটনার পরপরই অস্ট্রেলিয়া সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্কের নির্দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাকি ছয়জন আশ্রয়প্রার্থী সদস্যকে দ্রুত বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে অন্য একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ছয়জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে।

অবশ্য তেহরান থেকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, খেলোয়াড়েরা ইরানে নিরাপদ থাকবেন। তাঁদের কোনো শাস্তির ভয় নেই। তবে মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, ইরানে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই জোলফি শেষ মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

জোলফির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নারী ফুটবল দলের সদস্যরা ইরানের জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। নিজ দেশে তাঁদের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ইরানে ফিরলে তাঁদের কঠোর শাস্তির প্রবল ঝুঁকি ছিল।

গত রোববার রাতে টিম বাস থেকে এই খেলোয়াড়দের হাত দিয়ে আন্তর্জাতিক ‘সাহায্য চাই’ সংকেত দিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সংকেত দেখেই মূলত মানবাধিকার কর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠেন।