নেপালে পাহাড়ি ঢলের ধ্বংসচিত্র। ছবিটি গত রোববার তোলা। ৩০ আগস্ট, ২০২৬
নেপালে পাহাড়ি ঢলের ধ্বংসচিত্র। ছবিটি গত রোববার তোলা। ৩০ আগস্ট, ২০২৬

চীনের কাছে আগাম সতর্কবার্তা চেয়েছিল নেপাল

হিমাবহধস থেকে নেপাল–তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের তিন মাস আগে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য কাঠমান্ডুতে বৈঠক করেছিলেন চীন ও নেপালের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা।

নেপালের রাজধানীতে গত ২৭ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশটির ১০ জন কর্মকর্তা এবং চীনের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা অংশ নেন। চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্যোগকবলিত তিব্বত অঞ্চলের কর্মকর্তারাও ছিলেন। নেপালের পক্ষ থেকে ওই বৈঠকের যে আলোচ্যসূচি তৈরি করা হয়েছিল, সেটি দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৈঠকে বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহ-সম্পর্কিত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলো মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা যৌথভাবে ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্যে ছিল হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলোর তালিকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানচিত্র তৈরি করা।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা যৌথভাবে ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্যে ছিল হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলোর তালিকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানচিত্র তৈরি করা।

কিন্তু ওই বৈঠকের পর হিমবাহের ঝুঁকি ও পানির স্তর সম্পর্কে চীনের কাছ থেকে নেপাল যতটা তথ্য আশা করেছিল, ততটা তারা পায়নি বলে রয়টার্সকে বলেছেন দুই নেপালি কর্মকর্তা।

এই কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত তথ্য আদান-প্রদান না হলে বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া ও এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে নেপালের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ওই বৈঠকে নেপালের পক্ষ থেকে দেশটির বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের বিশেষজ্ঞ সৌহার্দ্য যোশি উপস্থিত ছিলেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা আসলে তাদের কাছ থেকে যা চেয়েছিলাম এবং এখনো যা চাই, তা হলো হিমবাহে যদি আগেভাগে কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় কিংবা ওই এলাকায় কোনো পরিবর্তন ঘটে, তবে আমরা যেন সেটা আগেভাগে জানতে পারি।’

আমরা আসলে তাদের কাছ থেকে যা চেয়েছিলাম এবং এখনো যা চাই, তা হলো—হিমবাহে যদি আগেভাগে কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় কিংবা ওই এলাকায় কোনো পরিবর্তন ঘটে, তবে আমরা যেন সেটা কিছুটা আগেভাগে জানতে পারি।
সৌহার্দ্য যোশি, নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের বিশেষজ্ঞ

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবার হিমবাহধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির বন্যায় দুই দেশে ৯০৩ জন নিহত হয়েছেন। এখনো ৪ হাজার ২০০–এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চীন বলেছে, ‘সময়মতো’ তথ্য দিয়েছে তারা

কোনো কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞই এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করেননি। এ দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপালের বার্ষিক আয়ের আনুমানিক এক-দশমাংশ ব্যয় হতে পারে। নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।

গত বুধবার যে এলাকায় পাহাড়ি ঢল নেমেছিল, গত বছর সেই একই এলাকায় হওয়া বন্যার বিষয়ে বৈঠকে নেপাল উদ্বেগ জানিয়েছিল। তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ওই বন্যা হয়। এতে নেপালে অন্তত নয়জন নিহত এবং এক ডজনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন।

গত মে মাসের ওই বৈঠক এবং নেপালের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তথ্য আদান-প্রদানের যে অনুরোধ করা হয়েছিল, তা নিয়ে রয়টার্স চীনের মন্তব্য জানতে চেয়েছিল, কিন্তু দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো জবাব দেয়নি।

নেপাল সরকারের আরেক পানিবিশেষজ্ঞ বিনোদ পরাজুলি বলেন, বৈঠকে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নেপালের অনুরোধ পূরণে কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার এখতিয়ার তাঁদের নেই। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

যদিও ওই বৈঠকের বিস্তারিত বা সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী জনপদগুলোর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা হিমবাহগুলো পর্যবেক্ষণে চীনের কাছে নেপালের আরও বিস্তৃত সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে চীনা দূতাবাস বলেছে, দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে চীনা ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

গত শনিবার নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে বেইজিং ও কাঠমান্ডুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রয়েছে। মে মাসের বৈঠকে সীমান্তপারের দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

নেপালের কর্মকর্তাদের দাবি, গত বছরও নেপাল একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ধীরগতিতে এগোনো সহযোগিতা বা অগ্রগতিকে সাম্প্রতিক দুর্যোগের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

ভয়াবহ ওই দুর্যোগের পর নেপালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেছেন, চীন যথাযথ সতর্কবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে চীনা দূতাবাস বলেছে, দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে চীনা ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

চীনা দূতাবাস থেকে আরও বলা হয়েছে, চীনা দলগুলো ‘সময়মতো’ নেপালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করেছিল।

বুধবার যে এলাকায় পাহাড়ি ঢল নেমেছিল, গত বছর সেই একই এলাকায় হওয়া বন্যার বিষয়ে বৈঠকে নেপাল উদ্বেগ জানিয়েছিল। তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ওই বন্যা হয়। এতে নেপালে অন্তত নয়জন নিহত ও এক ডজনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হন।

ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে পড়ে আছে একটি ছবি। দেবীঘাট, নুয়াকোট, নেপাল। ৩০ আগস্ট, ২০২৬

বিনোদ পরাজুলি বলেন, ‘তিব্বত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে চীনা পক্ষ আমাদের সেই পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণের তথ্য দেয়। তবে তুষারধস, পানির স্তর বৃদ্ধি, ভূমিধস বা চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে তারা তথ্য দেয় না।’

এ বিশেষজ্ঞ আরও জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকে চীন তাদের উইচ্যাট মেসেজিং অ্যাপ ও ই–মেইলের মাধ্যমে তিব্বতে ভারী বৃষ্টির বিষয়ে পূর্বাভাস পাঠানো শুরু করেছে।

দুর্যোগের আগের ঘটনাপ্রবাহ

দুর্যোগের ১২ দিন আগে চীনের ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার নেপালের কর্মকর্তাদের একটি ই–মেইলে জানিয়েছিল, ১৪ থেকে ১৯ আগস্ট ওই এলাকায় একটি মৌসুমি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস আছে। রয়টার্স ওই ই–মেইল দেখেছে।

চীন সতর্ক করে বলেছিল, ‘নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভূমিধস, আকস্মিক বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট ও ধারাবাহিক দুর্যোগের আশঙ্কার বিষয়েও আমরা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’

চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, গত সপ্তাহের দুর্যোগে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের কারণে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পর্যবেক্ষণ-তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য চীন নিয়মিতভাবে নেপালের সঙ্গে আদান-প্রদান করছে।

দুর্গম যে পার্বত্য অঞ্চলের তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটি চীন ও ভারতের মতো আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে। ফলে এসব অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস দেওয়া ও আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জটিল। এসব এলাকায় বিপুল পরিমাণ বরফ ও তুষার জমে আছে, আর নিচে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ সমভূমি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও পরিবেশবিষয়ক নৃবিজ্ঞানী অস্টিন লর্ডের মতে, বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয় তুলনামূলকভাবে কম পর্যবেক্ষণ করা একটি এলাকায় হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে। নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ঘাটতি এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখেনি।

তবে অস্টিন লর্ড এটাও বলেছেন, ‘এর মানে এই নয় যে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায়। নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান খুবই সীমিত।’

লর্ড এমন একটি দলের সদস্য, যারা দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নেপাল সরকারকে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে নেপালি পক্ষের তুলনায় চীনা বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির সক্ষমতা অনেক বেশি এবং তাঁদের হাতে অনেক বেশি সম্পদও রয়েছে।’

পাহাড়ি ঢলটি নেপালে পৌঁছাতে যে সময় নিয়েছিল, তা থেকে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার গুরুত্ব স্পষ্ট বোঝা যায় বলেও মনে করেন পরাজুলি।

বুধবার নেপালের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটের দিকে কাদাপানির বিশাল আকারের স্রোত যখন প্রচণ্ড গতিতে তিব্বতের একটি সীমান্তচৌকি দিয়ে ধেয়ে যাচ্ছিল, তখন সেখানে থাকা লোকজনের পালানোর চেষ্টা ভিডিও নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ওই ভিডিও ফুটেজ দুর্যোগটির অন্যতম প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে।

এর ২৬ মিনিট পর, নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ফোন করে ত্রিশূলী নদীতে বন্যার বিষয়ে পরাজুলিকে সতর্ক করেন। পরাজুলির দল জানতে পারে, সীমান্তের একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের পর থেকে কোনো তথ্য পাঠায়নি।

পারজুলি বলেন, ‘এরপর আমরা ভাটির দিকের পর্যবেক্ষণকেন্দ্রগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু সেসব কেন্দ্র থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।’ তাঁর দলের ধারণা, ওই যন্ত্রপাতিগুলো সম্ভবত স্রোতে ভেসে গেছে।

নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে পরজুলির দল মুঠোফোনে সাধারণ মানুষের কাছে একটি সতর্কবার্তা পাঠায়।

নেপাল সরকারের এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নেপাল-চীন সীমান্ত থেকে ১৬৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে ধেয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঢলে অন্তত চারটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বন্যায় প্রায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ ঘনমিটার (২০০ কোটি ঘনফুট) পানি প্রবাহিত হয়, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেড় গুণের বেশি।

নেপালের চিতওয়ান জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে নিহত একজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

স্টিমসন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের পাহাড়ি ঢলে নেপালে ১৯টি সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১০ শতাংশের বেশি অচল হয়ে পড়েছে।

নেপালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীব্যবস্থার উৎপত্তি তিব্বতে। এরপর সেগুলো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ ও বন্যাঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পরাজুলি বলেন, তুষারধস ও হিমবাহ হ্রদ থেকে পানি বেরিয়ে আসার ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষণা ও নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবে নেপালের কর্তৃপক্ষ। কারণ, এসব ঘটনা পার্বত্য এলাকার জনপদগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

তাঁর বিভাগ চীনের সঙ্গে একটি তথ্য আদান-প্রদান চুক্তির প্রস্তাব দেবে, যা প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যমান ব্যবস্থার আদলে হবে বলেও জানান পরাজুলি। এর আওতায় শুধু ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির স্তর সম্পর্কে আরও ঘন ঘন তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নেপাল প্রতি ১০ মিনিট অন্তর তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে, যাতে আমরা আমাদের লোকজনকে সতর্ক করতে পারি, তাঁদের জীবন বাঁচাতে পারি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতে যেন কোনো দুর্যোগই আমাদের নজর এড়িয়ে না যায়।’