জেনসেন হুয়াং আর তাঁর মতো সাজ দেওয়া ইয়াং ইয়াং
জেনসেন হুয়াং আর তাঁর মতো সাজ দেওয়া ইয়াং ইয়াং

২৮ ডলার ব্যয়ে হয়ে গেলেন এনভিডিয়ার প্রধানের মতো

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় এক তরুণকে নিয়ে হইচই পড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে অনলাইনে তাঁর অনুসারীসংখ্যা কয়েক হাজার বেড়ে গেছে।

ওই তরুণের নাম ইয়াং ইয়াং (২৮), থাকেন চীনের একটি গ্রামে। তাঁকে নিয়ে হইচই পড়ে যাওয়ার কারণ, তাঁর সাজপোশাক। সম্প্রতি তিনি কয়েকটি ভিডিও তৈরি করে সেগুলো অনলাইনে ছেড়েছেন। ভিডিওগুলোয় তাঁকে দেখতে হুবহু এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংয়ের মতো লাগছে।

তাইওয়ানের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জেনসেন হুয়াংয়ের এনভিডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি। এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন।

সম্প্রতি ইয়াং ইয়াং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ২০টির বেশি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওগুলোয় তাঁকে হুয়াংয়ের মতো ধূসর চুল, কালো চামড়ার জ্যাকেট ও চশমা পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

হুয়াংয়ের মতো সাজতে খুব বেশি অর্থ ইয়াংকে খরচ করতে হয়নি। চুলের রং ধূসর করতে ইয়াং প্রথমে চুলে গমের আটা ছিটিয়ে দেন এবং তার ওপর হেয়ার জেল ব্যবহার করেন।

চায়না নিউজ উইকলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ ইউয়ানে (প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা) ইয়াং ইয়াং চামড়ার জ্যাকেটটি কেনেন। আর চশমা কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে ১০ ইউয়ান (১৮১ টাকা)।

কয়েকটি ভিডিওতে ইয়াংকে এনভিডিয়ার বসের অনুকরণে বড় একটি বাটি থেকে নুডলস খেতে, চা পান করতে এবং ফলের রস পান করতে দেখা যায়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে বেইজিংয়ে এসেছিলেন জেনসেন হুয়াং। সে সময় হুয়াংকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী ঝাজিয়াংমিয়ান (ভাজা সসের নুডলস) খেতে দেখা যায়। তাঁর দ্রুত নুডলস খাওয়ার সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

এ মাসের শুরুতে ইয়াংয়ের অ্যাকাউন্টে অনুসারীসংখ্যা ৫৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। হুয়াংকে অনুকরণ করে তাঁর করা ভিডিওগুলোর কয়েকটির ভিউ দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে। একবারে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মানুষ তাঁর লাইভ স্ট্রিমগুলো দেখেছেন।

১৬ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে অন্য এলাকায় গিয়ে কাজ শুরু করেন ইয়াং। তাঁকে রেস্তোরাঁয় থালা-বাসন ধোয়া থেকে শুরু করে নুডলস রান্নার কাজ করতে হতো। বয়স্ক মা-বাবার দেখাশোনা করতে তিনি পাঁচ বছর আগে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। তারপর ভিডিও তৈরি শুরু করেন।