হোয়াইট হাউসে বৈঠকে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩০ এপ্রিল, ২০২৫
হোয়াইট হাউসে বৈঠকে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩০ এপ্রিল, ২০২৫

চীনে রুবিওর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল, আজ তিনি ট্রাম্প-সির বৈঠকে

বেইজিং সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে। বৈঠকে হাজির ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন। এর আওতায় তাঁর দেশটিতে প্রবেশ মানা রয়েছে।

রুবিওর বিরুদ্ধে চীন কেন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার পরও প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হয়ে তিনি কীভাবে বেইজিং গেলেন, কীভাবে ট্রাম্প–সির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির থাকার সুযোগ পেলেন—এসব প্রশ্ন এখন বেশ আলোচিত হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব পিপল’–এ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্পের অন্য সফরসঙ্গীদের সঙ্গে ছিলেন রুবিও। কিন্তু কীভাবে?

আল–জাজিরা বলেছে, নিষেধাজ্ঞায় থাকা রুবিওর বেইজিং সফরের পথ খুঁজে বের করেছে চীন নিজেই। এ জন্য দেশটি স্বভাবসুলভভাবে একটি কৌশলী উপায় খুঁজে নিয়েছে। তাঁকে নতুন একটি চীনা নাম দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সময়টা ২০২০ সাল। রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হননি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনেটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় বেইজিং। নিষেধাজ্ঞার ওই তালিকায় টেড ক্রুজসহ মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।

ওই সময় বলা হয়েছিল, হংকং আর মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়ানে গৃহীত নীতি নিয়ে চীনের কঠোর সমালোচনা করায় রুবিওসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চীন সফর করতে পারবেন না।

এরপর সময় গড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসে আবারও এসেছেন ট্রাম্প। এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রুবিওকে বেছে নিয়েছেন তিনি। এখন সফর করছেন চীনে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন না, তা কি হয়?

রুবিওর প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হওয়ায় সম্ভাব্য জটিলতার বিষয়টি আগেই নজরে এসেছিল। গত মার্চে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রুবিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হতে চাইলে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনে শিথিল করা হবে।

এ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান গত ১৬ মার্চ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিনেটর পদে থাকার সময় চীনের বিষয়ে রুবিওর কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড লক্ষ করে চীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।