
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি আশা করছেন, তালেবান আফগানিস্তানে সভ্য আচরণ করবে, যাতে বিশ্বসম্প্রদায় কাবুলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।
গতকাল শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আফগান তালেবানকে নিয়ে এই মন্তব্য করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর ভ্লাদিভোস্টকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে বক্তব্য দেন পুতিন। সেখানে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বিভাজনে আগ্রহী নয় রাশিয়া। যদি এমনটা হয়, তাহলে কথা বলার মতো কেউ থাকবে না।
পুতিন বলেন, তালেবান যত তাড়াতাড়ি সভ্য মানুষের পরিবারে প্রবেশ করবে, তত সহজে সংযোগ, যোগাযোগ, প্রভাবিতকরণ ও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে।
গত ১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। ৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। শেষ মার্কিন সেনা কাবুল ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটে।
এ প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, একটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গত মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
পুতিন বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তার ফলাফল কী? কোনো ফল নেই।
আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের ২০ দিন পেরিয়ে গেছে। এখনো তালেবান নতুন সরকার গঠন করতে পারেনি। গতকাল তালেবানের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু তা পেছানো হয়। তালেবান বলেছে, আজ শনিবার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হতে পারে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে সার্বিক আচরণে একধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছে রাশিয়া। কাবুল পতনের দিন কয়েক পর আফগানিস্তানে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূত তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে দূতাবাস চালু রাখবে মস্কো।