গাড়ির পাশে অলিভার জেঙ্কস (বাঁয়ে) ও তাঁর বন্ধু সেথ স্কট (ডানে)
গাড়ির পাশে অলিভার জেঙ্কস (বাঁয়ে) ও তাঁর বন্ধু সেথ স্কট (ডানে)

পুরোনো তিন চাকার গাড়িতে ১৪ হাজার মাইল পাড়ি

বন্ধু যদি হঠাৎ বলে বসে, ‘চল একটা তিন চাকার পুরোনো গাড়ি নিয়ে দেশ-বিদেশে ১৪ হাজার মাইল ঘুরে আসি’—তখন বেশির ভাগ মানুষ হয়তো এটাকে নিছক ঠাট্টা ভাববেন। ব্রিটিশ নাগরিক অলিভার জেঙ্কসও তাঁর কানাডীয় বন্ধুর কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পেয়ে হেসেছিলেন। তবে বন্ধুকে নিরাশ করেননি।

প্রস্তাবটি ছিল, যুক্তরাজ্যের রিলায়েন্ট রবিনের কয়েক দশকের পুরোনো একটি তিন চাকার গাড়ি নিয়ে লন্ডন থেকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণ। মোট পথ প্রায় ১৪ হাজার মাইল (২২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার)। যাত্রাপথে ২২টি দেশ পার হতে হবে। উদ্দেশ্য, তিন চাকার গাড়িতে সবচেয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের রেকর্ড গড়া। শেষ পর্যন্ত কানাডীয় বন্ধু সেথ স্কটের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান জেঙ্কস।

যুক্তরাজ্যে রিলায়েন্ট রবিন গাড়ির আলাদা একটা জনপ্রিয়তা আছে। তিন চাকার ছোট এ গাড়ি মূলত দোকানে আসা-যাওয়ার মতো কাজের জন্য বানানো হয়েছিল। ২০০০ সালের দিকে এ গাড়ির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে এর জায়গা থেকে গেছে। বিশেষ করে অনলি ফুলস অ্যান্ড হর্সেস নামের কমেডি নাটকে ট্রটার ভাইদের হলুদ গাড়ির কারণে এটি আরও পরিচিত হয়ে ওঠে।

তবে সমস্যা হলো, রিলায়েন্ট রবিনের পুরোনো তিন চাকার গাড়িতে করে আফ্রিকার পশ্চিম দিক দিয়ে জঙ্গল, পাহাড় আর মরুভূমি পেরিয়ে হাজার হাজার মাইল ভ্রমণ করাটা কঠিন। আর স্কট ও জেঙ্কস এটিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন।

শুরুতে অভিযানের জন্য তিন চাকার গাড়ি কেনা হয়। তাঁরা গাড়িটির নাম দেন ‘শিলা’। রুপালি রঙের এই তিন চাকার গাড়িটি ছিল রিলায়েন্ট রবিনের শেষ দিকের একটি মডেল।

গত অক্টোবরে জেঙ্কস ও স্কট যাত্রা শুরু করেন। শিলার ছোট ছাদের ওপর বাঁধা ছিল এক ক্যান জ্বালানি আর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস। অবশেষে চার মাসের বেশি সময় পর তাঁদের যাত্রা শেষ হয়।

‘শিলা’ গাড়িটির সক্ষমতা বর্ণনা করতে গিয়ে জেঙ্কস বলেন, ‘এতে পাওয়ার স্টিয়ারিং নেই, এসি নেই, আর পাহাড়ে উঠতেও পারে না, নামতেও পারে না। সম্ভবত যেকোনো যাত্রার জন্যই এটি সবচেয়ে অযোগ্য গাড়ি।’

জেঙ্কস বলেন, এ গাড়ির ডিজাইনার নিজেও গাড়িটিকে টানা ২০ মাইলের বেশি চালাতে ভয় পান।