
ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাগনার গ্রুপ আর যুদ্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই কারতাপোলভ। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই বাহিনীর জন্য আরও অর্থ দেবে না রাশিয়া।
ভাগনার যোদ্ধাদের নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দিতে বলেছিল রাশিয়া। এতে রাজি হয়নি ভাগনার গ্রুপ। এরপরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত এল।
ভাগনার যোদ্ধাদের কী হবে, এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে আন্দ্রেই জানালেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবির সঙ্গে একমত ছিলেন না প্রিগোশিন। এর জের ধরেই বিদ্রোহ হয়েছিল।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমার সদস্য আন্দ্রেই। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, কয়েক দিন আগে বিদ্রোহ হয়েছিল। এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে, ইউক্রেনে যারা অভিযান পরিচালনা করছে, তাদের সবাইকে অবশ্যই চুক্তি করতে হবে।’ তিনি জানান, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি ভাগনার।
আন্দ্রেই বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে সবাই তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে প্রিগোশিন এতে সম্মতি জানাননি।
পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সভাপতি ছিলেন আন্দ্রেই। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন না বলেই প্রিগোশিন যোদ্ধাদের জানিয়ে দেন, তাঁরা আর ইউক্রেনে লড়াই করবেন না। প্রিগোশিনের এই সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আর কোনো অর্থ পাবে না ভাগনার গ্রুপ।
ভাগনারপ্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন গত শনিবার রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ-অন-দনসহ বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নেন তাঁরা। এরপর বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় প্রিগোশিন ও ক্রেমলিনের মধ্যে চুক্তি হয়। এই চুক্তির পর বেলারুশে নির্বাসনে যান প্রিগোশিন। আর ভাগনার যোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই এখন ছুটিতে আছেন।