গরমে নাকাল ইউরোপ

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়াল

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে গতকাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম দিন
ছবি: রয়টার্স

চরম গরমে নাকাল যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দেশটির তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে গতকাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম দিন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার মধ্যাঞ্চলীয় ইংল্যান্ডের কনিংসবি এলাকায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ স্টিফেন বেলচার বলেছেন, তিনি তাঁর কর্মজীবনে যুক্তরাজ্যে এমন তাপমাত্রা দেখবেন বলে আশা করেননি।

স্টিফেন বেলচার বলেন, ‘আবহাওয়া অফিসের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক জলবায়ু পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। তবে গ্রিনহাউস গ্যাসকে কেন্দ্র করে জলবায়ুর পরিবর্তন হওয়ায় এ ধরনের চরম তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে।’

লন্ডন থেকে পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় এলাকাগামী রুটগুলোতে ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো বলছে তারা ব্যাপক বিভ্রাটের মধ্যে আছে। ব্যস্ততম নগরীগুলোতে নীরবতা দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যের রেলওয়ে কোম্পানি নেটওয়ার্ক রেল টুইটারে কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রেললাইনগুলো বেঁকে গেছে।

লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড তাপমাত্রা বৃদ্ধির এ অবস্থাকে বড় ঘটনা বলে ঘোষণা করেছে। বারবিকিউ বানানো বন্ধ রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

লন্ডনের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বলছে, চরম গরমের কারণে তাদের কাছে ঘণ্টায় ৪০০টি করে ফোন আসছে।

অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনাবিষয়ক উপপরিচালক পিটার রোডস বলেন, ‘গরমের কারণে আমাদের কাছে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।’

মঙ্গলবার জার্মানিতে ২০২২ সালের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন রেকর্ড হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দুইসবার্গ শহরে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ক্রমাগত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে তাপপ্রবাহ। এদিন নেদারল্যান্ডসেও ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

পর্তুগালে চলমান তাপপ্রবাহ উল্লেখজনকভাবে বাড়ছে। তাপপ্রবাহের কারণে দেশটিতে গত সপ্তাহ থেকে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

চরম তাপপ্রবাহের কারণে স্পেনের মধ্যাঞ্চল ও উত্তর–পশ্চিমাঞ্চল দাবানলে পুড়ছে। ইউরোপের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণবিষয়ক সংস্থা দ্য কোপারনিকাস মনিটরিং সার্ভিস বলছে, ২০০৩ সালের পর গত জুন থেকে এ পর্যন্ত স্পেনে দাবানলজনিত কারণে সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

গ্রিসের পার্বত্য অঞ্চল পেনতেলিতে দাবানল দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। অন্তত চারটি এলাকা ও একটি হাসপাতাল থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইতালির আবহাওয়াবিদেরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আজ বুধবার থেকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে ৪০–৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে। দেশটিতেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় দাবানল ছড়িয়েছে।