যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব আবারও আলোচনায়। গতকাল শনিবার মাল্টার রাজধানী ভাল্লেত্তায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ইউক্রেন শান্তি সম্মেলন। সম্মেলন থেকে জেলেনস্কি তাঁর দেওয়া প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মাল্টা সম্মেলনে ৬৬টি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অংশ নেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে বিগত কয়েক মাসে তৃতীয় সম্মেলন এটি। এর আগে গত জুনে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ১৫টি ও আগস্টে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রেই ইয়ারমাক বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাফল্য পাচ্ছে। ইউক্রেনের শান্তি প্রস্তাবের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের পক্ষে নেওয়া উদ্যোগে যুক্ত দেশের সংখ্যাও বাড়ছে।
গত বছর তাঁর দেওয়া শান্তি প্রস্তাব বৈশ্বিক সমর্থন পাচ্ছে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করব। এরপর সেটা রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈশ্বিক শান্তি সম্মেলনে তুলে ধরব, যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবটি অনুমোদন ও তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’
জেলেনস্কির দেওয়া ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের মধ্যে আছে রাশিয়া ইউক্রেনের যেসব ভূখণ্ডের দখল নিয়েছে, তা ফিরিয়ে দেওয়া; ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার; খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা; পারমাণবিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং রাশিয়ায় থাকা যুদ্ধবন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
এএফপির খবরে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাতে কৃষ্ণসাগর ও ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ৩৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আজ রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় এসব ড্রোন পাঠিয়েছিল ইউক্রেন। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।