ইকুয়েডরে কলাভর্তি কনটেইনার থেকে হাজার কোটি টাকার কোকেন জব্দ

বেলজিয়ামে রপ্তানি করার জন্য প্রস্তুত একটি কলাভর্তি কনটেইনারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করা হয়। ছবি: ইকুয়েডর পুলিশের সৌজন্যে
বেলজিয়ামে রপ্তানি করার জন্য প্রস্তুত একটি কলাভর্তি কনটেইনারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করা হয়। ছবি: ইকুয়েডর পুলিশের সৌজন্যে

লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে কলাভর্তি কনটেইনার থেকে ৮ দশমিক ৮ টন কোকেন জব্দ করেছে দেশটির পুলিশ। বিপুল পরিমাণ এই কোকেন বেলজিয়ামে পাঠানো হচ্ছিল। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা) বলে জানিয়েছেন ইকুয়েডরের পুলিশ কমান্ডার ফস্তো সেলিনাস।

প্রতিবেশী দেশ পেরু ও কলম্বিয়া কোকেন পাচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ইকুয়েডরের বন্দরগুলো ব্যবহার করে আসছে। ফলে দেশটি এ অঞ্চলে কোকেন পাচারের অন্যতম বড় ট্রানজিটে পরিণত হয়েছে। গত বছর ইকুয়েডরে ২০০ টনের বেশি কোকেন জব্দ করা হয়েছিল। এর বেশির ভাগই গুয়াইয়াকিল বন্দর দিয়ে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল।

ইকুয়েডর কোকেনের বড় ট্রানজিট দেশ হওয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। সেটি হলো, বিশ্বে কলা রপ্তানিতে দেশটি শীর্ষে। গুয়াইয়াকিল বন্দর দিয়ে ফলটি রপ্তানির আড়ালে বিদেশে মাদক পাচার করেন পাচারকারীরা। ৮ দশমিক ৮ টন কোকেনের যে চালানটি সর্বশেষ জব্দ করা হয়েছে, সেটিও একইভাবে পাচার করা হচ্ছিল।

বিপুল পরিমাণ এই মাদক এমন সময় উদ্ধার করা হলো যখন বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনেলিয়েস ভেরলিনডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ইয়ালভা জোহানসন ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া সফর করছেন। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার এই দুই দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চাইছেন তাঁরা।

গত বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামের এন্টার্প বন্দরে সবচেয়ে বেশি কোকেন জব্দের ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপিয়ান মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশনের পরিচালক অ্যালেক্সিস গসডেল চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, ‘কোকেনের চালান বেড়ে যাওয়ার ঘটনা গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’