স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানসেজ
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানসেজ

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেবে না স্পেন

ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে না স্পেন। দেশটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত বহুপক্ষীয় এবং জাতিসংঘ পরিচালিত ব্যবস্থার ওপর দেশটির বিশ্বাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞ, কিন্তু আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি।’

পেদ্রো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি মাদ্রিদের থাকা প্রতিশ্রুতিই শান্তি পর্ষদে স্পেনের সাড়া না দেওয়ার মূল কারণ। এ ছাড়া এই উদ্যোগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই পর্ষদ গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা সসুংগঠিত করা এবং যেসব এলাকায় যুদ্ধ শেষ হয়েছে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ সমন্বয় করবে। গাজায় ট্রাম্প ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনার একটি অংশ এটি।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো (হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া ছাড়া) উপস্থিত ছিল না।

ইসরায়েল ইতিমধ্যে এই পর্ষদে যোগ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও এতে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, মরক্কো, পাকিস্তান, তুরস্কসহ আরও কিছু দেশ এখন পর্যন্ত শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শান্তি পর্ষদ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে এর উদ্দেশ্য আরও বিস্তৃত করা হয়। বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সংঘাত থামানোই এ পর্ষদের উদ্দেশ্য। এতে সদস্য হওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে এর আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে ১০০ কোটি ডলার করে দিতে হবে।

আলোচিত এ শান্তি পর্ষদ সম্পর্কে ট্রাম্প দাভোসে বলেছিলেন, ‘বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হলে আমরা যা চাই, তা–ই করতে পারব। বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে নেব।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ বলেন, এ পর্ষদের সঙ্গে জাতিসংঘের যোগাযোগ শুধু গাজার পটভূমির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।