স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের খবরে স্টারমার বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ‘ভীষণ কঠিন’ ফলের দায় স্বীকার করে স্টারমার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেব না।’
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও লেবার পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। স্টারমার বলেন, ‘ফলাফল খুবই কঠিন এবং এটি আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সারা দেশে অনেক মেধাবী প্রতিনিধি হারিয়েছি। এটি কষ্টের এবং এর দায় আমি নিচ্ছি।’
দুই বছর আগে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া স্টারমারের জন্য এই নির্বাচন ছিল সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।
জনমত জরিপের পূর্বাভাস মিলিয়ে দিয়ে গতকাল ভোটের ফলের শুরুতেই লেবার পার্টির বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আসা ১৩৬টি কাউন্সিলের মধ্যে ৪০টির ফলে দেখা যায়, নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ ৩৫০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, লেবার পার্টি হারিয়েছে ২৪০টির বেশি আসন।
এই বড় পরাজয় ৬৩ বছর বয়সী স্টারমারের পদত্যাগের দাবি কিংবা দলীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জকে আরও জোরালো করতে পারে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘এই ফল পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের সংকল্পকে দুর্বল করবে না।’
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই জয়কে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ‘ঐতিহাসিক পরিবর্তন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এর আগে ‘দ্য টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানায়, লেবার পার্টির সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ড ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করা ভুল হবে।
ইংল্যান্ডের ৫ হাজার কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। স্টারমার সরকারের ওপর জনঅসন্তোষের সুযোগ নিয়েছে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টি।
সমালোচকদের মতে, ভুল নীতি এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কেলেঙ্কারি স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের সংকটে থাকা ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।