
সরকারি কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এমন সময়ে এ তদন্ত শুরু হলো যখন কিনা ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনকে স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ম্যান্ডেলসন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ই–মেইলগুলোতে দেখা গেছে, লর্ড ম্যান্ডেলসন ২০০৯ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন।
এ ব্যাপারে লর্ড ম্যান্ডেলসনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে বিবিসি সাড়া পায়নি। তবে বিবিসি এটা বুঝতে পেরেছে যে ম্যান্ডেলসন মনে করেন তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় কিছু করেননি।
সরকারি এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘পুলিশকে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা ও সমর্থন দিতে সরকার প্রস্তুত আছে।’
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হয়। লেবার পার্টির রাজনীতিবিদ ম্যান্ডেলসন সংসদীয় কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, তিনি আজ বুধবার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন।
গত সোমবার স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ও রিফর্ম ইউকে বলেছে, তারা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে ম্যান্ডেলসনের বিষয়টি অবহিত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, তারা ই–মেইলগুলো পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে। লর্ড মান্ডেলসন বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে ই–মেইলগুলো জেফরি এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, নথিগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনায় সেগুলোতে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটকে ঘিরে বাজারবিষয়ক স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগ–সংক্রান্ত ‘প্রাসঙ্গিক’ তথ্যের বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মার্ক রোলিকে চিঠি লিখেছেন।
গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, গত সেপ্টেম্বরে কেবিনেট সেক্রেটারিকে তিনি যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সেটি ইতিমধ্যে পুলিশকে দিয়েছেন। এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে থাকা তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে কেবিনেট সেক্রেটারিকে চিঠিটি লিখেছিলেন তিনি।
ব্রাউন মনে করেন, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা দেশবিরোধী কাজ এবং এর পক্ষে কোনো অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। কারণ, পুরো দেশ ও সরকার তখন বিশ্বের আর্থিক মন্দা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিল।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার এলা ম্যারিয়ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি এটা নিশ্চিত করতে পারি যে মেট্রোপলিটন পুলিশ সরকারি দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে যেকোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য আমাদের কাছে উপস্থাপন করলে মেট কর্তৃপক্ষ তা মূল্যায়ন করবে। এই মুহূর্তে আর কোনো মন্তব্য করব না।’
সপ্তাহান্তে লর্ড ম্যান্ডেলসন আবারও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি ভুক্তভোগী নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
যদিও পদত্যাগের পর লর্ড ম্যান্ডেলসন আর হাউস অব লর্ডসের সদস্য থাকবেন না, তবে তাঁর লর্ড উপাধি থেকে যাবে। এই উপাধি কেবল পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব।
১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেছেন, লর্ড ম্যান্ডেলসনের উপাধি যত দ্রুত সম্ভব বাতিল করতে সরকার একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে।