আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বাইরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বাইরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পাহারা দিচ্ছেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড মার্কিন বিমানঘাঁটির ঘটনায় ইরান জড়িত: যুক্তরাজ্যের দাবি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, দেশটির গ্লস্টারশায়ারে মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের একটি ভূমিকা ছিল বলে বিশ্বাস করে তাঁর সরকার।

গত রোববার রাতে যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান যাওয়ার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্দেহভাজন পাঁচজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হলেও পরে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল বলে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ভুল পথে হাঁটছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচি লিখেছেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আসলে সবকিছুই বলে দেয়।’

সন্দেহভাজন পাঁচজনকে কেন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হলে বলতাম, তাঁদের জামিন দেওয়া যাবে না। তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় আমি বিস্মিত। আমি হলে এমনটা করতাম না।’

গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। ঘাঁটিটি ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁদের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ কথাটি শুনে মানুষ যা ভাবছে, বিষয়টি তা নয়। তাঁদের কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খুব শক্তভাবে তদারকি করছে।

বার্নহ্যামের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় স্পষ্টভাবেই কোনো বিদেশি শক্তির হাত থাকার ইঙ্গিত আছে। গত সোমবার ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, বিষয়টি এমন একটি বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে বিভিন্ন শক্তি, বিশেষ করে ইরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছে।

বার্নহ্যাম বলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সপ্তাহ ধরে আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঘটনাটি কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে, তা তাঁদের জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্তে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিবিসিকে বার্নহ্যাম বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে আমরা আরও তথ্য জানাব। তবে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এ ঘটনায় ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল বলে আমাদের বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চলমান, জটিল ও গুরুতর পুলিশি তদন্তের অংশ। এ তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সড়ক আটকে রেখেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ডে, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের আগে তাঁদের একজন নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন বলে পরে জানা গেছে।

গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। ঘাঁটিটি ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

সামরিক অভিযান পরিচালনা ও বিমান মোতায়েনের কাজে কয়েক দশক ধরে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধ ও ১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময় এখান থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়েও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকার ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার অনুমতিও দিয়েছে।

এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছিল, ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান যেন উড়তে না দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যে ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেটিতে পাল্টা হামলা করা হবে।

ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্য সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথের প্রবেশপথে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্যদের দেখা গেছে।