
পার বার্তেলসেনকে ২০২৫ সালটি পার করতে হয় বেশ ঝঞ্ঝাটের মধ্যে। তাই বছরটির বিদায় উদ্যাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি। সে জন্য স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের একটি রেস্তোরাঁয়।
৭৬ বছর বয়সী বার্তেলসেন গ্রিনল্যান্ডের একজন পার্লামেন্ট সদস্য, দ্বীপটির ক্ষমতাসীন দলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। নিজের জন্মভূমি দখলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হুমকির বিরুদ্ধে তিনি কয়েক মাস ধরে প্রচার চালিয়ে যান।
নৈশভোজ সেরে এই দম্পতি ট্যাক্সি ধরতে রেস্তোরাঁ থেকে বাইরে আসতেই তাঁদের সামনে আবির্ভূত হন এক ব্যক্তি। নাম তাঁর ইয়ুরগেন বোয়াসেন। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা)’ আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত স্থানীয় মুখ তিনি। তাঁকে ট্রাম্পের ‘গ্রিনল্যান্ডীয় পুত্র’ বলেও ডাকেন অনেকে।
এক সাক্ষাৎকারে বার্তেলসেন সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, বোয়াসেন তাঁদের কাছে এসে চিৎকার করে তাঁকে মারামারিতে জড়ানোর জন্য উসকানি দিচ্ছিলেন। তবে ঠিক তখনই ট্যাক্সি চলে আসে এবং বার্তেলসেন ও তাঁর স্ত্রী ট্যাক্সিতে করে সেখান থেকে চলে যান।
বার্তেলসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোয়াসেনের এমন আচরণের কথা প্রকাশ করলে গ্রিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোটে তুমুল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বোয়াসেন এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করার ক্ষেত্রে এক দল মার্কিন নাগরিকের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছেন। মার্কিন নাগরিকদের এ দলটি কোনো না কোনোভাবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁরা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণার পক্ষে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিবিদেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করা এসব মানুষের চেষ্টায় আদতে হিতে বিপরীত হচ্ছে।
বোয়াসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মানুষকে শারীরিকভাবে হামলা ও গালাগালি করার অভিযোগ আছে। তাঁর সঙ্গে যেসব মার্কিন নাগরিক কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রভাবশালী নীতিগত রূপরেখা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ এ ভূমিকা রাখা এক ব্যক্তি এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের এক উপদেষ্টা।
ট্রাম্পের মিত্রদের এই অসংগঠিত নেটওয়ার্ক গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে এবং ডেনমার্ককে হেয় করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে। ডেনমার্ক কয়েক শতাব্দী আগে ৫৬ হাজার মানুষের এই দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। আজও তারা দ্বীপটির পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
ডজনখানেক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, এই মার্কিনরা নানা কৌশল ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্লেজ (বরফে কুকুরটানা গাড়ি) প্রতিযোগিতায় তহবিলের ব্যবস্থা করা, বিরোধী রাজনীতিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বড় বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং গ্রিনল্যান্ডের উপনিবেশিক অতীতের যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়গুলো সামনে নিয়ে আসা।
রয়টার্স জানতে পেরেছে এ প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া দলটির এক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। তিনি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে প্রশাসনকে পরামর্শও দিয়েছেন।
আরেক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মীদের কাছে স্থানীয় রাজনীতিকদের সম্পর্কে প্রতিবেদন পাঠাতেন। এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, তবে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কতটা সমন্বয় করে কাজ করছেন, গ্রিনল্যান্ডে তাঁদের কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড দ্বীপটিতে কত গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তা সবিস্তারে প্রথম সামনে আনল রয়টার্স।
ডেনমার্ক ১৭০০-এর দশকে গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশে পরিণত করে। ১৯৭৯ সাল থেকে দ্বীপটি ক্রমাগত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে এটি নিজেদের অধিকাংশ প্রশাসনিক কাজ নিজেরাই পরিচালনা করে। তবে ডেনমার্ক এখনো গ্রিনল্যান্ডকে প্রতিবছর প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়।
ট্রাম্পের সমর্থকদের এমন তৎপরতা প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুটি ইয়েওয়ে বলেন, ‘এই মানুষগুলোর কোনো সম্মানবোধ নেই।’
‘গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরাই গ্রিনল্যান্ডের মালিক—এ কথাকে যারা সম্মান করে না, আমিও তাদের সম্মান করি না’, যোগ করেন মুটি ইয়েওয়ে।
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির প্রধান পিপালুক লিন রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নাগরিকদের প্রভাব বিস্তারের যে চেষ্টা তিনি দেখেছেন, তাতে তিনি অন্য যেকোনো মার্কিনকে নিয়ে ‘শতভাগ সন্দিহান’।
পিপালুক লিন আরও বলেন, ‘আমরা একটি উপনিবেশ। তাই আমরা জানি, একটি দেশ দখলের জন্য মানুষের বিরুদ্ধে সাধারণত কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়।’
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনা করে প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক ও উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তিগত আলোচনায় অংশ নিচ্ছে’।
বার্তেলসেনের সঙ্গে বাদানুবাদের কথা স্বীকার করেছেন বোয়াসেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তেলসেন তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলায় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে বোয়াসেনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলার কথা অস্বীকার করেছেন বার্তেলসেন। তাঁর দাবি, তিনি ডেনিশ সংবাদমাধ্যমে বোয়াসেনের সমালোচনা করেছিলেন মাত্র।
ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা লাভের ধারণা গ্রিনল্যান্ডে বরাবরই বেশ জনপ্রিয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডেনমার্কের এক জরিপে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তীব্র বিরোধী।
ওই মাসেই ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এরপর তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটি দখল না করলে চীন বা রাশিয়া সেটি দখল করে নেবে। অবশ্য বেইজিং ও মস্কো—দুই দেশই ট্রাম্পের এমন আশঙ্কা খারিজ করে দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার মন্তব্য করায় এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে না দেওয়ায় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মধ্যে এবং বড় পরিসরে ন্যাটো জোটের ভেতরে কয়েক মাস ধরে এই উত্তেজনা চলে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পিছু হটেন এবং বিষয়টি যুদ্ধে না গড়িয়ে একটি কূটনৈতিক পথে মোড় নেয়।
গত মার্চে এক মার্কিন জেনারেল সিনেট কমিটিকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডে নতুন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু গত সপ্তাহে ট্রাম্প আবারও এই বিষয় খুঁচিয়ে তোলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, তিনি দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বাসনা ছাড়েননি।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধে সামরিক জোট ন্যাটো যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। ৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মিত্রদের এই অসংগঠিত নেটওয়ার্ক গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে এবং ডেনমার্ককে হেয় করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে। ডেনমার্ক কয়েক শতাব্দী আগে ৫৬ হাজার মানুষের এই দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। আজও তারা দ্বীপটির পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
তিনি বলেন, ‘সত্যিটা জানতে চাইলে বলতে হয়, এর সবকিছুই শুরু হয়েছে গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে। আমরা গ্রিনল্যান্ড চাই। তারা আমাদের এটি দিতে চায় না। তাই আমি বলেছি, বাই বাই (বিদায়)।’
কয়েক দিন পর তিনি ন্যাটোর বিরুদ্ধে আরেকটি কড়া কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যখন আমাদের দরকার ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না এবং আবারও দরকার হলে তারা পাশে থাকবে না। মনে রাখবেন, গ্রিনল্যান্ডের কথা, সেই বিশাল, অদক্ষভাবে পরিচালিত, বরফের টুকরার কথা!!!’
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ন্যাটোর মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে বিস্তারিত বলার মতো অবস্থানে তারা নেই।’ ট্রাম্প সমর্থক মহলে বোয়াসেনকে সাদরে গ্রহণ করার যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তা গ্রিনল্যান্ডের অনেক মানুষকে বিস্মিত করেছে। কারণ, তাঁদের দৃষ্টিতে বোয়াসেন একজন ভীতিকর ব্যক্তি।
কাঠমিস্ত্রী অ্যালান জোসেফসেন দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের কাকোর্তোক শহরে বোয়াসেনের সঙ্গে বড় হয়েছেন। শহরটিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। জোসেফসেন বলেন, ১৯৯০-এর দশকে কিশোর বয়সী বোয়াসেন দুটি ছুরি নিয়ে তাঁর কাছে ছুটে এসেছিলেন এবং ছুরিকাঘাত করেছিলেন। বোয়াসেনের পছন্দের এক নারীর সঙ্গে নাচার কারণে জোসেফসেনের কাঁধে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তবে রয়টার্স এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বোয়াসেন কে
বোয়াসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি। বারবারই তাঁকে প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে কটূক্তি করতে দেখা গেছে। পার্লামেন্ট সদস্য ও ক্ষমতাসীন জোটভুক্ত ছোট একটি দলের নেতা আক্কালু জেরিমিয়াসেন বলেন, গত বছর একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে খাবার খাওয়ার সময় বোয়াসেন দুজন পার্লামেন্ট সদস্যকে আক্রমণ করে কথা বলেন। ডেনমার্ককে সমর্থনের কারণে তিনি ওই দুই পার্লামেন্ট সদস্যকে ‘বামপন্থী যৌনকর্মী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন।
বোয়াসেনকে নুক শহরের সরকারি সুইমিংপুল, নুকের প্রধান হোটেল এবং শহরের মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ফাইট ক্লাব থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিউ অরলিন্স থেকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোয়াসেন এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে বোয়াসেন দাবি করেন, তাঁর নিজের বা গ্রিনল্যান্ডের মানুষের জন্য শত্রু বলে বিবেচিত মানুষের মুখোমুখি হওয়ার কারণেই তাঁকে এসব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই তাঁকে ফাইট ক্লাব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হোটেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, বোয়েসেনের ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ অতিথিদের হয়রানি বা হুমকি দেওয়া।
জোসেফসেনকে ছুরিকাঘাত ও জেরিমিয়াসেনকে গালাগালির অভিযোগ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাব দেননি বোয়াসেন। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি কোনো আইনি শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বোয়াসেন আলোচনায় আসেন। কারণ, ওই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র গ্রিনল্যান্ড সফর করেছিলেন এবং বোয়াসেন তাঁর গাইড ছিলেন। বিমানবন্দরে ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে দেখা করে তিনি তাঁকে নুকের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েওয়ের মূর্তির কাছে নিয়ে যান। ইয়েওয়ে ছিলেন নরওয়ের নাগরিক। গ্রিনল্যান্ডে উপনিবেশ স্থাপনে ভূমিকার কারণে অনেক গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।
পরে ট্রাম্প জুনিয়র নুকের হোটেল হান্স ইয়েওয়েতে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে দেখা যায়, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মোবাইল ডিভাইসে স্থাপিত স্পিকারফোনের মাধ্যমে ওই হোটেলে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। ওই সমাবেশে থাকা ব্যক্তিরা মাথায় ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা হ্যাট পরে ছিলেন।
ট্রাম্প জুনিয়রের ওই সফর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ওই সময় বলেছিলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’
বোয়াসেন বলেন, এখন ধনী মার্কিন দাতাদের অর্থায়নে তাঁর কার্যক্রম চলছে। তবে ওই দাতাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দ্বীপটির স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বোয়াসেন। সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ড্রি পরে এসব উদ্বেগের বিষয়গুলো ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছিলেন। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি দ্বীপটিতে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠাবেন, তবে বাস্তবে এমন কোনো জাহাজ পাঠানো হয়নি। তবুও ট্রাম্পের এই ঘোষণা ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দেয়। সে সময় ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি এমন একটি দেশে বাস করতে পেরে খুশি, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুযোগ আছে। ফ্রেডেরিকসেনের এ কথাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি তাঁর পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে বোয়াসেন গ্রিনল্যান্ডের ভেতরকার একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। ডেনমার্ক ১৭০০-এর দশকে গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশে পরিণত করে। ১৯৭৯ সাল থেকে দ্বীপটি ক্রমাগত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে এটি নিজেদের অধিকাংশ প্রশাসনিক কাজ নিজেরাই পরিচালনা করে। তবে ডেনমার্ক এখনো গ্রিনল্যান্ডকে প্রতিবছর প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়।
ফেসবুক পোস্টে গ্রিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় দুর্গম এলাকার এক প্রভাবশালী মেয়র লার্স এরিক গ্যাব্রিয়েলসেন ওই দ্বীপের স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনাকে স্বাগত জানান। তিনি লিখেছেন, ‘জনগণ বলে থাকে যে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থায় কেবল ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে সবকিছু সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এটা গর্ব করার মতো কিছু নয়। লোকটি ঠিকই বলেছে।’
ল্যান্ড্রির কার্যালয় রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি
ট্রাম্পের প্রতি বোয়াসেনের জোরালো সমর্থন দেখে গ্রিনল্যান্ডের কয়েকজন নেতা আশঙ্কা করছেন যে তিনি স্থানীয় লোকজনের অনেকের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
পার্লামেন্ট সদস্য জেরিমিয়াসেন বলেন, ‘তারা সংখ্যায় কম হলেও কথা বলে খুবই জোরালোভাবে।’
গ্রিনল্যান্ডের এমন মানুষদের নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জেরিমিয়াসেন বলেন, ‘এটাই উদ্বেগের বিষয়—ট্রাম্পের কানে যা পৌঁছাচ্ছে, তাতে মনে হতে পারে যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অনেক মানুষ আছে।’
গ্রিনল্যান্ডের ভেতরে ঢুকে তৎপরতা
টম ড্যান্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকেন বোয়াসেন। ড্যান্সের হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘প্রজেক্ট ২০২৫’-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ পুনর্গঠন বিষয়ে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর ভাই পল ড্যান্স।
ডিসেম্বরে ট্রাম্প আবার টম ড্যান্সকে ইউএস আর্কটিক রিসার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইউএস আর্কটিক রিসার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ড্যান্স গ্রিনল্যান্ডসংক্রান্ত কৌশল নিয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন। আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ড্যান্স ও তাঁর দল মাঠপর্যায়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে কাজ করছেন, তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
হোয়াইট হাউসের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেছেন, ড্যান্স এর আগে দ্বীপটির বিষয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে বারবারই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। তবে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কতটা সমন্বয় করে কাজ করছেন, গ্রিনল্যান্ডে তাঁদের কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড দ্বীপটিতে কত গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে—তার বিস্তারিত এবারই প্রথম সামনে এনেছে রয়টার্স।
বোয়াসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের কূটনীতিকেরা ড্যান্সকে তাঁর ট্রাম্পপন্থী অবস্থানের কথা জানালে তিনি প্রথম তাঁর নজরে আসেন। এরপর ড্যান্স তাঁকে এমন একটি এনজিওতে কাজের সুযোগ দেন, যার লক্ষ্য ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের সম্পর্ক দৃঢ় করা’।
২০২৪ সালের কোনো এক সময়ে বোয়াসেন ও ড্যান্স গ্রিনল্যান্ডের ডগস্লেজিং অ্যাসোসিয়েশনের দিকে মনোযোগ দেন। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য তহবিলের প্রয়োজন ছিল। গ্রিনল্যান্ডে সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডগস্লেজিং। এখানে স্থানীয় লোকজন অন্তত চার হাজার বছর ধরে কঠিন আর্কটিক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য কুকুরকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মানুমিনা লুন্ড জেনসেন একে ‘আত্মার অংশ’ বলে উল্লেখ করেন।
ড্যান্স ও বোয়াসেন তৎকালীন গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য এবং ডগস্লেজিং অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ডরিস ইয়াকবসেন জেনসেনের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, তাঁর কার্যালয়ে বৈঠকের সময় ড্যান্সের সঙ্গে তিনি সংস্থার বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। বোয়াসেন জেনসেনকে বলেছিলেন, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র চায় উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওই ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানানো হোক। রয়টার্সকে জেনসেন এমনটা বলেছেন।
জেনসেনের মতে, অ্যাসোসিয়েশনটি ছোট একটি সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে তাদের কয়েক ডজন প্রতিযোগী ও কুকুরের আকাশপথে পরিবহন খরচও বহন করতে হয়। বৈঠকের পর সংস্থাটি মার্কিন অর্থায়নের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ড্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর এনজিও চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছে। পরে অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাদের কিছু অর্থ এসেছে নুকের মার্কিন কনস্যুলেট থেকে। তবে অ্যাসোসিয়েশনটি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, নুকের মার্কিন কনস্যুলেট ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতার জন্য কুকুর ও প্রতিযোগীদের পরিবহন খরচ বহন করেছে, তবে কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ অনুদান দেওয়া হয়নি। তিনি ড্যান্স ও গ্রিনল্যান্ডে সক্রিয় অন্যান্য মার্কিন নাগরিকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ২০২৫ সালের মার্চে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয়, সেকেন্ড লেডি ঊষা ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডের ডগস্লেজিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবেন। এতে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
এরপর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তিনিও গ্রিনল্যান্ড সফর করবেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ভ্যান্স দম্পতি তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজসহ গ্রিনল্যান্ডে যান। তবে তাঁরা ডগস্লেজিং প্রতিযোগিতায় না গিয়ে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। গ্রিনল্যান্ডের একটি বিরল খনিজের খনিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের পূর্ব পরিচালনাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব ছিল। এমন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথিতে পাওয়া গেছে। পরে লুটনিক ওই কোম্পানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এবং বর্তমানে এটি তাঁর ছেলেরা পরিচালনা করছেন।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, লুটনিক তাঁর নৈতিকতাসংক্রান্ত চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলেছেন। এর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকলে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রিনল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা ভানজেনহাইমের আশঙ্কা, স্থানীয় লোকজন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে ‘প্রলোভিত’ হতে পারেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের জীবনযাত্রার মান এখনো খুবই নিম্ন।’
ডেনমার্কের উপনিবেশিক অতীত নিয়ে অনুসন্ধান
কিছু মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডের জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ডেনমার্কের উপনিবেশিক শাসনের যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস সামনে আনার চেষ্টা করছেন। ২০২৫ সালের মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের উপদেষ্টা ক্রিস কক্স গ্রিনল্যান্ড সফরে যান। তখন বোয়াসেনকে তাঁর আশপাশেই দেখা গেছে।
সফরের পর কক্স যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ধারার সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন যে তিনি ‘শত শত’ গ্রিনল্যান্ডবাসীর সঙ্গে কথা বলে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক অন্যায়-অবিচারগুলো চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে কিছুটা স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করার চেষ্টা করতে পারি। এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ।’
কক্স অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে নানা ধরনের অবিচার করছে। এর মধ্যে আছে ডেনমার্ক সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ‘গোপনে ও জোরপূর্বকভাবে’ নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য করা। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের হাজার হাজার নারী ও কিশোরীর জরায়ুতে জন্মনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করেছিল। ২০২৪ সালে গ্রিনল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরবর্তীকালে ডেনমার্ক এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় এবং ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেয়।
কক্স গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের আইনি অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫৩ সালে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে জনগণের ভোট ছাড়াই নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কক্সের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল রয়টার্স, তবে তিনি সে অনুরোধে সাড়া দেননি।
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য বার্তেলসন মনে করেন, এসব মার্কিন প্রচেষ্টা গ্রিনল্যান্ডবাসীর সমর্থন নয়, বরং তাঁদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এ বার্তেলসনই গত ডিসেম্বরে রেস্তোরাঁর বাইরে বোয়েসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
বার্তেলসন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির বর্তমান প্রশাসন থেকে আমরা যে মানসিক চাপ ও ভীতি অনুভব করেছি, তা আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত ফল দিয়েছে।’