Thank you for trying Sticky AMP!!

দেড় মাসে যা ঘটল যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

নানামুখী চাপ, চরাই-উতরাই ও গুঞ্জনের পর অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে না পেরে মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার।

এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ট্রাসই সবচেয়ে কম সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার রেকর্ড করলেন। এর আগে ১১৯ দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন জর্জ ক্যানিং; সেটিও প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮২৭ সালে।

গত দেড় মাসেই বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়ে ওঠেন যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা লিজ ট্রাস। গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তাতে ১৫ জনই ছিলেন নতুন মুখ। আগের মন্ত্রিসভা থেকে ১৬ জনকে রাখা হয় ট্রাসের সরকারে।

ট্রাস বলেছেন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরাট এক অস্থিরতার সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছিলেন। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদে এসেছেন, তা পূরণ করতে পারছেন না। তাই পদ ছাড়ছেন তিনি।

৪৭ বছর বয়সী ট্রাসের আমলে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু। ৬ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে রানির সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের অনুমতি নেন তিনি। এর দুই দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেখানে মারা যান রানি। ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনে রানির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়। স্কটল্যান্ড থেকে আকাশপথে রানির মরদেহ লন্ডনে আনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন ট্রাস।

এদিকে রানির মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে সংক্ষিপ্ত বাজেট উপস্থাপন করেন ট্রাস সরকারের অর্থমন্ত্রী কাওয়াসি কোয়ারতেং। বাজেটে গৃহস্থালির কর ছাড় ও অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে জনগণকে জ্বালানি বিল দেওয়ার প্রস্তাব করেন কোয়ারতেং। এসব ট্রাসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এরপরই দেশটির বন্ড ও মুদ্রাবাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা। রেকর্ড দরপতন ঘটে পাউন্ডের। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর পাউন্ডের দাম ১ দশমিক ০৩৫০ ডলারে নেমে আসে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে পরদিন হস্তক্ষেপ করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। এ ছাড়া ট্রাস সরকারের সংক্ষিপ্ত বাজেটে করপোরেট কর ২৫ শতাংশে বর্ধিত করার প্রস্তাবে বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অসন্তুষ্ট হয়। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ঠেকাতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাস। তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে নানা মহলে। পরিস্থিতি সামলাতে করছাড়ের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। এতে আরও বেশি সমালোচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ট্রাসই সবচেয়ে কম সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার রেকর্ড করলেন। এর আগে ১১৯ দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন জর্জ ক্যানিং; সেটিও প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮২৭ সালে।

Also Read: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দেড় মাসের মাথায় লিজ ট্রাসের পদত্যাগ

নিজের রাজনৈতিক জীবন বাঁচাতে ট্রাস অর্থমন্ত্রী কাওয়াসি কোয়ারতেংকে বরখাস্ত করেন। ১৪ অক্টোবর সেই পদে বসান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে। এই পদে হান্টকে বসানোর উদ্দেশ্য করপোরেট কর কমিয়ে আনা, বাজারে ভারসাম্য ফেরানো। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর হান্ট বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারের সব অর্থনৈতিক প্যাকেজ পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেন। কিন্তু এসবই নির্বাচনের আগে ট্রাসের দেওয়া প্রতিশ্রুতির পুরোপুরি বিপরীত। এর ফলে নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির অনেক এমপিও ট্রাসের পদত্যাগ দাবি করেন।

Also Read: প্রধানমন্ত্রিত্ব রক্ষায় লড়ছেন লিজ ট্রাস

অর্থমন্ত্রীকে বরখাস্তের পর ট্রাস বড় ধাক্কা খান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যানের পদত্যাগে। ১৯ অক্টোবর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন সুয়েলা। মূলত এক সহকর্মীকে ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে দাপ্তরিক নথি পাঠানোর পর বিতর্ক সৃষ্টি হলে পদত্যাগ করেন তিনি। সুয়েলা বলেন, ‘প্রযুক্তিগত বিধি লঙ্ঘন’ করায় পদ ছেড়েছেন তিনি।

Also Read: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিজ ট্রাসের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপসকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন ট্রাস। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রাস। তিনি জানান, এরই মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা রাজা তৃতীয় চার্লসকে জানিয়েছেন।

ভাষণে ট্রাস আরও বলেন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরাট এক অস্থিরতার সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছিলেন। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদে এসেছেন, তা পূরণ করতে পারছেন না। তাই পদ ছাড়ছেন তিনি।

Also Read: যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নজিরবিহীন সংকট

Also Read: লিজ ট্রাস জিতলেন বটে, কিন্তু সময় শেষ