যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। সমসাময়িক চিত্রশিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন হকনি। তাঁর প্রচারক এরিকা বোল্টন আজ শুক্রবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ৮৯তম জন্মদিনের এক মাস আগে বৃহস্পতিবার লন্ডনে ‘নিজের বাড়িতে’ মারা গেছেন হকনি।
ষাটের দশকে পপ শিল্প আন্দোলনের একজন অগ্রদূত ছিলেন হকনি। বিশ্বব্যাপী নিজেকে একজন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত চিত্রাঙ্কন ও প্রদর্শনী চালিয়ে গেছেন। গত অক্টোবরে টেলিগ্রাফকে দেওয়া শেষ সাক্ষাৎকারে হকনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষকে আমার কিছু বলার আছে। সে কারণেই (কাজ করে যাওয়া)।’
এই শিল্পীকে যুক্তরাজ্য সরকার ১৯৯৭ সালে ‘কম্প্যানিয়ন অব অনার’ উপাধিতে ভূষিত করে। এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পান। হকনির মৃত্যুর পর শিল্পসংক্রান্ত ইতিহাসবিদ রিচার্ড মরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তিনি জটিল চিত্রকর্মকে সহজ করে দেখাতে পারতেন। ব্রিটিশ শিল্পকলা একজন বিরাট ব্যক্তিত্বকে হারাল।
১৯৯৯ ও ২০১৭ সালে দুটি প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত পম্পিদো সেন্টারের সঙ্গে কাজ করেছিলেন হকনি। পম্পিদো সেন্টার বলেছে, ডেভিড হকনি যে কাজগুলো রেখে গেছেন, তা ‘উজ্জ্বল, জীবন্ত এবং চিরন্তন’ হয়ে থাকবে। ২০১৮ সালে তাঁর আঁকা ‘পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট’ নিউইয়র্কে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
১৯৩৭ সালে উত্তর ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্ম হকনির। অল্প বয়সেই বুঝতে পেরেছিলেন, একজন শিল্পী হতে চান। তিনি ব্র্যাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট এবং পরে লন্ডনের রয়্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ নেন। যেখান থেকে তিনি স্বর্ণপদকসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। হকনির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে কলেজটি বলেছে, হকনি আজীবন শিল্পকলায় একজন ‘অবিসংবাদিত কণ্ঠ’ ছিলেন।
টেলিগ্রাফকে দেওয়া সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে হকনি বলেছিলেন, ‘(চিত্রকর্মে) আমি হুবহু মিল আনার চেষ্টা করি। শেষ পর্যন্ত অন্যরা এটা সম্পর্কে কী ভাবল তা আমি পরোয়া করি না, আমি এটা সম্পর্কে কী ভাবছি সেটাই আসল। আমি যখন ছবি আঁকি, তখনই সবচেয়ে বেশি সুখী থাকি।’