
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর ব্যক্তিগত অনুরোধে কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছেন। রুশ হামলায় ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষ যখন প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে বিদ্যুৎ ও তাপহীন অবস্থায় কাটাচ্ছেন, তখন ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কারণে বিদ্যুৎ, তাপ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি যখন নতুন করে মানবিক সংকটের মুখে, ঠিক তখন ট্রাম্প এ দাবি করলেন।
ক্রেমলিন অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামলা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখছেন।
হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে...আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অনুরোধ করেছি যেন এ সময়ে এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভ এবং অন্যান্য শহর ও জনপদে কোনো হামলা চালানো না হয়।’
ওয়াশিংটনের বর্তমান শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি সাধারণ কোনো ঠান্ডা নয়, এটি নজিরবিহীন শীত। সেখানেও (ইউক্রেন) রেকর্ডভাঙা ঠান্ডা পড়ছে। আবহাওয়া খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে।’
ক্রেমলিন অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামলা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁরা (ইউক্রেনবাসী) এর আগে কখনো এমন শীতের মুখে পড়েননি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভ ও বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি রাজি হয়েছেন। আমি বলব, এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়।’
গত বছর কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে ঘটা করে সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তাঁদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা (ইউক্রেনে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা নিয়ে) রুশ নেতা রক্ষা করবেন বলে ট্রাম্প আস্থা প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা (ইউক্রেনবাসী) এর আগে কখনো এমন শীতের মুখে পড়েননি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভ ও বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি রাজি হয়েছেন। আমি বলব, এটি খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়।—ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
এ ব্যাপারে পুতিনের সঙ্গে ঠিক কবে কথা হয়েছে কিংবা কথিত এ যুদ্ধবিরতি কখন থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলেছিল, “ফোন করে সময় নষ্ট করবেন না। তিনি (পুতিন) রাজি হবেন না।” কিন্তু তিনি রাজি হয়েছেন।’
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি রাজি হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। কারণ, সব সমস্যার ওপর আবার শহরগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—এমনটা এখন কাম্য নয়।’