কী আছে রাষ্ট্রপতি ভবনে?

ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাষ্ট্রপতি ভবন। আজ (২৫ জুলাই) তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। উঠবেন তাঁর জন্য বরাদ্দ রাষ্ট্রপতি ভবনে। বিশ্বে রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য যেসব বড় বাসভবন রয়েছে, এর মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনও রয়েছে। জেনে নেওয়া যাক কী কী আছে এই ভবনে:

ভবনে রয়েছে কতটি কক্ষ?

রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ এই সরকারি বাসভবনটি ৩৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত। চারতলা এই ভবনে রয়েছে ৩৪০টি কক্ষ। এর মধ্যে লিভিং রুম ৬৩টি।

গভর্নমেন্ট হাউস ফোর্স কোর্টে কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ।

ভবনের ছোট্ট ইতিহাস

ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ইরউইনের জন্য এই ভবনটি তৈরির চিন্তা আসে ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার এডউইন লুটিয়েনছের মাথায়। ১৯২৯ সালে এই ভাইসরয় এই ভবনে ওঠেন। ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারি প্রথম এই বাসভবনে ছিলেন। তখন এর নাম ছিল গভর্নমেন্ট হাউস।

যখন ভবনটি তৈরি হয়, তখন এর নাম ছিল ভাইসরয়’স হাউস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই ভবনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গভর্নমেন্ট হাউস। পরে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় এর নাম হয় রাষ্ট্রপতি ভবন। ২৯ হাজার লোক ১৭ বছর ধরে এই ভবনটি তৈরি করেন।

রাষ্ট্রপতির উপহারগুলো কী হয়?

এই ম্যানশনে উপহারসামগ্রী রাখার জন্য একটি জাদুঘর আছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যেসব উপহার পেয়ে থাকেন, তা এই জাদুঘরে রাখা হয়।

ক্লক টাওয়ার

রাষ্ট্রপতি ভবনে রয়েছে একটি ক্লক টাওয়ার। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জে বি জয়সে অ্যান্ড কোম্পানি এটি তৈরি করে। রাষ্ট্রপতি ভবনে ২৩ মিটার উঁচু এই ক্লক টাওয়ারটি নজর কাড়ে সবার। সেখানেও রয়েছে একটি জাদুঘর। রাষ্ট্রপতির পাওয়া উপহারসামগ্রী দ্বারা সজ্জিত এই জাদুঘর।

প্রকৃতির ছোঁয়া

রাষ্ট্রপতি ভবনের ৭৫ একরের বেশি জায়গাজুড়ে আছে বাগান। রয়েছে জলাধার, প্রজাপতি কর্নার, বরইগাছের উদ্যান, আমবাগান, ময়ূর পয়েন্ট, কমলালেবুর বাগান ও বন। আছে নানা জাতের হাজার হাজার গাছগাছালি, পশুপাখি।

ভোজ কক্ষ

এটি সুবিশাল খাবার ঘর। এখানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়। এই কক্ষটি ১০৪ ফুট লম্বা ও ৩৪ ফুট প্রশস্ত। একসঙ্গে ১০৪ জন বসে খেতে পারে।