
পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবার প্রচুর ইলিশ সাগরে ধরা পড়বে। রাজ্যের উপকূলবর্তী সাগরে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। চলতি মৌসুমে প্রথম চালানে ছয় হাজার কেজি ইলিশ এসেছে রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়।
গত ১৫ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্রে ইলিশ ধরার ওপর ২ মাস নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত ১৪ জুন রাতে রাজ্য সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। ওই রাত থেকেই সমুদ্রে ইলিশ ধরার জন্য পাড়ি জমান দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘাসহ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার জেলেরা। রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ৮ থেকে ৯ হাজার মাছ ধরা ট্রলার রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
কলকাতা ফিশ ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস জানান, গতকাল শনিবার বিকেলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র পাইকারি বাজারে ১৫টি ট্রলারে এই মৌসুমের প্রথম ৬ হাজার কেজি ইলিশ আসে। সব ট্রলারেই কমবেশি ৪০০ কেজি করে ইলিশ ছিল।
নামখানার ট্রলারমালিক নয়ন দাস বলেছেন, এবার সব ট্রলারেই কিছু না কিছু ইলিশ ধরা পড়েছে। দুই কেজি ওজনের ইলিশও রয়েছে। শনিবার ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ রুপিতে। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ৯৫০ রুপিতে। অন্যদিকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ রুপি।
মৎস্যজীবীরা জানান, ১৪ জুন রাত থেকে তাঁরা ট্রলার নিয়ে ইলিশ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি দেন। সে সময় তিনবার সমুদ্রে গিয়েও ধরতে পারেননি বড় ইলিশ। অনেক মৎস্যজীবী ফিরে এসেছিলেন অল্প কিছু পোয়া, পমফ্রেট ও লইট্যা মাছ নিয়ে। মিলেছিল কিছু ছোট আকারের ইলিশও। তবে অম্বুবাচী ও রথযাত্রার পর ইলিশ গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের কাছে উঠে আসবে বলে ধারণা করছিলেন তাঁরা। সেই ভরসায় ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দিলে এবার মেলে ইলিশ।
কাকদ্বীপের ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই বছর সমুদ্রে তেমন ইলিশ না পাওয়ার পর এবার সত্যিই খরা কাটতে চলেছে বলে আশা করছেন তাঁরা।
আজ রোববার সকালে অতুলচন্দ্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবার সত্যিই ইলিশের খরা কাটতে চলেছে এই বাংলায়। মৌসুমের প্রথম দিকে আমরা ইলিশ না পেলেও গতকাল থেকে আমাদের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে ট্রলার ইলিশ নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে। আমাদের বিশ্বাস এবার আমরা বড় আকারের ইলিশ পাব।’