বিধানসভা নির্বাচনের আগে মিজোরামে সংকটে কংগ্রেস

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা। ছবি: প্রথম আলো
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা। ছবি: প্রথম আলো

বিধানসভা ভোটের আগে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামেও সংকটে পড়ল কংগ্রেস। কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যটির স্বরাষ্ট্র ও বিদ্যুৎমন্ত্রী লালজিরিলিয়ানা দলবদলের ঘোষণা করেছেন। এর আগে মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডিডি লাপাংও কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন।

চলতি বছরই ৪০ সদস্যের মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচন হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের মধ্যে একমাত্র মিজোরামেই রয়েছে কংগ্রেসের সরকার। তবে দলীয় কোন্দলে এখানেও দিশেহারা কংগ্রেস নেতৃত্ব।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী লালজিরিলিয়ানা মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি লাল থানহাওলার সঙ্গে বিবাদের জেরে দল দল ছাড়েন। যোগ দিয়েছেন বিজেপির ‘বন্ধু দল’ মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টে (এমএনএফ)। খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত রাজ্যটিতে এনএনএফই কংগ্রেসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। লালজিরিলিয়ানা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। কংগ্রেসও পাল্টা অভিযোগ করেছে তাদের এই সাবেক নেতার বিরুদ্ধে।

মিজোরামের পাশাপাশি মেঘালয়েও ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডিডি লাপাং দল ছেড়েছেন। অশীতিপর এই নেতার অভিযোগ, কংগ্রেসে তিনি মর্যাদা পাচ্ছেন না। লাপাংকে শান্ত করতে খোদ সোনিয়া গান্ধীও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় লাপাং। তাঁর অভিযোগ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমার বিরুদ্ধে।

ভারতীয় লোকসভায় উত্তর-পূর্ব ভারতে ২৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেসের দখলে আটটি, বিজেপির সাতটি, সিপিএমের দুটি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলের দখলে বাকি আসনগুলো। বিজেপি আশা করছে অন্তত ২২টি আসন পাওয়ার। এ জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

সমস্যা বিজেপির মধ্যেও রয়েছে। বিশেষ করে ‘বন্ধু দল’গুলোর সঙ্গে বিবাদ ও সংঘর্ষ চিন্তায় রেখেছে গেরুয়া শিবিরকে। দলের ভেতরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। ফলে খুব একটা স্বস্তি নেই বিজেপিও। তাই এখন থেকেই দলকে ত্রুটিমুক্ত রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।