
গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের ১৮টি জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে রাজ্যটির অপর ৫টি জেলায় একই সময়ে ১৪ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫২ জন। গতকাল শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও হাওড়া জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অপর দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, নদীয়া ও জলপাইগুড়িতে মৃত্যু হয় ১৪ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের হাসপাতালগুলো থেকে করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫৪ জন। এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮ হাজার ২০৩ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৪২ হাজার ৮২৪ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৭৬। একই সময়ে সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ২৮। অপর দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৭৫০ জনের।
করোনা শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৭ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৫৬৭ জনের। এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ১১ হাজার ৭৫৪ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজ্যে করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, রাজ্যের কলকাতাসহ ২৩টি জেলার ৭৯টি মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৪ বেডের হাইব্রিড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে।
গতকাল রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক রোগীদের জন্য ৮৮৭টি বেড রয়েছে। করোনার তৃতীয় ঢেউ সামলাতে আরও এক হাজার বেড তৈরি করা হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৭৯টি সরকারি হাসপাতালে বেডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৬।