
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দুর্নীতির অভিযোগে গত মাসে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তখন পার্থর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলেঘাটা ও টালিগঞ্জের বাসা থেকে নগদ প্রায় ৫০ কোটি রুপিসহ সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার গরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের বাসভবন থেকে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ রুপির ফিক্সড ডিপোজিটের সন্ধান পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। এগুলো রাখা আছে অনুব্রতের বাড়ির পাশের ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বোলপুর শাখায়। ফিক্সড ডিপোজিটে অনুব্রত মণ্ডল, মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের নাম পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার গরু পাচারকাণ্ডে সুকন্যা মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোলপুরের বাসভবনে হাজির হয়েছিলেন সিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় অনুব্রতের মেয়েকে জেরা করতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। এ কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে হাজির হতে সুকন্যাকে নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
এদিকে আজ সিবিআইয়ের আইনজীবী দাবি করেছেন, সুকন্যা মণ্ডল পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বেআইনিভাবে শিক্ষক হয়েছেন। ইতিমধ্যে এই বেআইনি চাকরির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সেই মামলায় হাজির হওয়ার জন্য সুকন্যাসহ ছয়জনকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
টানা ২৭ ঘণ্টা জেরা করার পর গত ২২ জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে ভারতের আর্থিক দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ঘুষ নিয়ে বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
এদিকে ১১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। শাসক দলের একটি জেলার নেতা হয়েও ‘কথা ও কাজের’ জন্য আলোচিত হতেন রাজ্যজুড়ে, সব সময়ই।