হামলার পর মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা অবস্থায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
হামলার পর মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা অবস্থায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে অভিষেকের পর এবার তৃণমূলদলীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলা, অভিযোগ বিজেপির দিকে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার একদিন পর দলটির আরেক নেতার ওপর হামলা করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তৃণমূলের ওই নেতার নাম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভারতের লোকসভার সদস্য। পশ্চিমবঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকা হুগলির চণ্ডীতলায় আজ রোববার তিনি হামলার শিকার হন।

হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় আঘাত লাগার পর কল্যাণ মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাঁর মাথা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, পুলিশকে ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সে সময় ভিড় থেকে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।

কল্যাণের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর ওপর প্রতিশোধমূলক এ হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চণ্ডীতলায় কী ঘটেছিল

ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সমর্থকেরা আজ সকালে চণ্ডীতলায় স্থানীয় থানায় যান। চণ্ডীতলা শ্রীরামপুর লোকসভা আসনের অন্তর্ভুক্ত। ২০০৯ সাল থেকে এই আসনে চারবার জয়ী হয়েছেন কল্যাণ।

ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য ও তৃণমূল নেতা কল্যাণ একটি ট্রাকের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে তাঁর মাথায় কিছু একটা দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তিনি মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। আশপাশের পুলিশ তখন এলাকা খালি করার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার উঠে দাঁড়ালেও ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। পরে তাঁকে মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা অবস্থায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মাথায় পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং তিনি ঘটনাটিকে ‘হত্যাচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি বিজেপিকে দায়ী করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কল্যাণ সাংবাদিকদের বলেন, যানজটের কারণে তিনি নিজের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে এগোচ্ছিলেন।

কল্যাণ বলেন, ‘হঠাৎ করে ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী স্লোগান দিতে শুরু করে এবং পরিবেশ উত্তেজিত করে ফেলে। তারা আমাকে গালিগালাজ করে, কিন্তু আমি এগিয়ে যেতে থাকি। তখনই আমার মাথায় একটি পাথর ছোড়া হয়। আমার গায়ের কুর্তা ও পায়জামায় রক্ত লেগে যায়। আমি রাস্তায় পড়ে যাই, সেই সময় একজন সিআরপিএফ সদস্য এসে আমাকে উদ্ধার করেন।’

তাঁকে উদ্ধার করার জন্য কল্যাণ সেন্ট্রাল ফোর্সকে ধন্যবাদ জানান। তবে ‘নীরব দর্শক’ বলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, রাজ্যে ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ অবস্থা বিরাজ করছে এবং তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সোনারপুরে হামলার শিকার হন লোকসভার সদস্য ও তৃণমূল নেতা অভিষেক। এবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল হেরে যায়। এর আগপর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী ছিলেন।

অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, রাজ্যের শাসক দল পরিকল্পনামতো এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, কিছু লোক অভিষেককে যথেচ্ছভাবে কিল-চড়, ঘুষি মারছে। এ সময় তৃণমূল নেতাকে কাছ থেকে ডিম ছুড়েও মারা হয়।

সেদিন অভিষেক দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সেখানে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।