
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছেন। তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, নেপালও ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে। এটি নেপালের চিরাচরিত অবস্থানের বাইরে নতুন এক মোড়। কারণ, নেপাল সাধারণত তার বড় প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের জমি দখলের অভিযোগই এনে থাকে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত রোববার নেপালের কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদে দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে ৩৫ বছর বয়সী শাহ এমন মন্তব্য করেন। তাঁর এ মন্তব্যে নেপালি আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ সীমান্ত অঞ্চলগুলো নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধ বছরের পর বছর ধরে মাঝেমধ্যেই চাঙা হয়ে ওঠে। এই দ্বন্দ্ব মূলত বিতর্কিত ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি ও মানচিত্রের একটি মিশ্রণ।
শাহ ঠিক কী বলেছেন, সীমান্ত বিরোধটি আসলে কী নিয়ে এবং এর অর্থই–বা কী, সেটা জেনে নেওয়া যাক।
কালাপানি-লিপুলেখ নিয়ে শাহ কী বলেছেন
পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শাহ বলেছেন, ‘আপনারা একটি তথ্য জেনে অবাক হবেন, যা আমি কেবল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই সম্প্রতি জানতে পেরেছি। শুধু ভারতই নেপালের ভূখণ্ড দখল করেনি, নেপালও অনেক জায়গায় ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে।’
ভারতের কোন কোন অংশ নেপাল দখল করেছে বলে তিনি মনে করেন, সে বিষয়ে নেপালি প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত কিছু বলেননি।
নেপালের এই নেতা আরও বলেন, ‘এখন দুই দেশেরই উচিত তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা এবং বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা।’
শাহ চলতি বছরের ২৭ মার্চ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন এবং ২০২২ সালে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সেই নির্বাচনে জয়ী হন। ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদে কঠোর অভিযান চালিয়ে তিনি বেশ বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন, যার কারণে সুশীল সমাজের নেতাদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
এর আগে বালেন্দ্র শাহ একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে দুর্নীতি ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরতেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শাহ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে (আরএসপি) যোগ দেন। এর কিছুদিন আগে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণদের তীব্র আন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা অলি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
মাত্র চার বছরের পুরোনো এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক সাংবাদিক রবি লামিছানে, যিনি বর্তমানে নেপালের সংসদ সদস্য। লামিছানে পাঁচ দিনের সফরে গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি গেছেন। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বালেন্দ্র শাহ আরও বলেন, নেপালি আইনপ্রণেতারা এই ভূখণ্ডগত বিরোধের বিষয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে কাঠমান্ডুভিত্তিক সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক নিশ্চল পান্ডে আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘শাহ এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতা চাইছেন না; বরং ১৮২৭ ও ১৮৩৪ সালের দিকের বিভিন্ন আসল জরিপ মানচিত্রের সহায়তা চাইছেন, যা ভারতের সঙ্গে আলোচনার সময় আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।’
নেপালের সাবেক কূটনীতিক লোক রাজ বারাল ২০২০ সালে আল-জাজিরাকে বলেছিলেন, ঐতিহাসিকভাবে নেপালের নিজস্ব কোনো মানচিত্র ছিল না। তাই দেশটি ‘ব্রিটিশ ভারতের প্রকাশিত মানচিত্রের ওপর নির্ভর করত’।
আসলে কী নিয়ে কালাপানি-লিপুলেখ দ্বন্দ্ব
ভারত ও নেপালের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার (১ হাজার ১১৮ মাইল) দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে, যেখানে যাতায়াতের জন্য ভারতীয় ও নেপালিদের কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তবে সুদূর পশ্চিমে অবস্থিত এই সীমান্তের একটি অংশ বিতর্কিত। আর সেটি হচ্ছে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল।
এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির সময় থেকে। ভারতের সঙ্গে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত নির্ধারণের জন্য নেপাল তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের সঙ্গে এই চুক্তি করেছিল।
নিশ্চল পান্ডে বলেন, নেপাল হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং ভারতের সঙ্গে এই দেশের কখনো কোনো যুদ্ধ হয়নি। যুদ্ধ যা হয়েছিল, তা ব্রিটিশদের সঙ্গে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক আরও বলেন, অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ১৮১৬ সালে স্বাক্ষরিত সুগৌলি চুক্তিতে বলা হয়েছে, নেপাল ‘কালী নদীর পশ্চিমের’ ভূখণ্ড ছেড়ে দেবে। কিন্তু কালী নদীটি ঠিক কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এই চুক্তির সঙ্গে কোনো মানচিত্রও যুক্ত ছিল না।
পান্ডে ব্যাখ্যা করে বলেন, মানচিত্রে এই ঘাটতির কারণেই লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি নেপালের অংশ হওয়া বা না হওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তৈরি হয়েছে।
ভারত অবশ্য এই অঞ্চলের ওপর নেপালের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের ১৮৩০-এর দশকের রাজস্ব রেকর্ড তুলে ধরে দাবি করছে, অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবেই বর্তমান ভারতের অংশের মাধ্যমে শাসিত হয়ে আসছিল।
১৯৬২ সালে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই কালাপানিতে ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। ভারত ও চীনের মাঝখানে স্যান্ডউইচের মতো অবস্থানে থাকা নেপাল সে সময় নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুই বিশাল প্রতিবেশীর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তারা নিরপেক্ষ ছিল।
পরবর্তী সময়ে নেপাল দাবি করে, ভারত ও নেপালের সীমানা নির্ধারণকারী রেখা, অর্থাৎ কালী নদীটির উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়। অন্যদিকে নয়াদিল্লির দাবি, সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা নদীটির উৎপত্তি লিপুলেখে।
নেপাল বলছে, ভারত যে নদীকে সীমান্ত মনে করছে, তা মূলত ১৮১৬ সালের চুক্তিতে উল্লিখিত মূল নদীর একটি উপনদী মাত্র।
বিতর্কিত ভূমিটি এই দুটি নদীর মাঝখানেই অবস্থিত।
শাহর মন্তব্য ভারত-নেপাল সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে
নর্থ ক্যারোলাইনা-ভিত্তিক অ্যাপালাচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির টেকসই উন্নয়ন বিষয়ের অধ্যাপক দিনেশ পাউডেল আল-জাজিরাকে বলেছেন, শাহ যে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপের উল্লেখ করেছেন, ‘ভারত সেটি ভালোভাবে নেবে না’।
পাউডেল বলেন, কালাপানি অঞ্চলের সঙ্গে ব্রিটিশরা যেভাবে নেপালের সীমানা নির্ধারণ করেছিল, তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এই দখলদারত্ব আসলে ব্রিটিশদের পর হয়েছিল।
পাউডেল আরও বলেন, শাহ সম্ভবত ‘কোনো সঠিক অধ্যয়ন বা পরিকল্পনা ছাড়াই’ এসব মন্তব্য করেছেন। কারণ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভেবেছিলেন, এটি তাঁকে তাঁর দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির কাছে ‘জনপ্রিয়’ করে তুলবে।
মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ের সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল প্রকৃতপক্ষে নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে যেকোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে বোঝা যায়, কার্যত ব্রিটিশদের যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করছে ভারত।
জয়সোয়াল বলেন, ‘সীমান্ত বিষয়ের সব দিক নিয়ে কাজ করতে আমাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এটি স্পষ্ট হওয়া উচিত, ভারত ও নেপালের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের ভূমিকা নেই।’
জয়সোয়াল আরও যোগ করেন, ‘লামিছানে ভারত সফর করছেন। কারণ, ভারত ও নেপালের জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে।’
এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও পাউডেল বলেন, শাহর মন্তব্য ভারত বা চীনের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কের ওপর তেমন বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
শাহর কথা উল্লেখ করে পাউডেল বলেন, ভারত মূলত বালেন ও তাঁর সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে, তা বোঝার চেষ্টা করছে। রবি লামিছানের এই সফর সেই বোঝার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
পাউডেলের মতে, ‘চীনও নেপাল সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবে না।’
সাম্প্রতিক সময়ে আর কখন এই দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে
গত মাসে নয়াদিল্লি বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথের মধ্য দিয়ে আবার ধর্মীয় তীর্থযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দেয়। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছিল।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি নেপালের অংশ। এ অবস্থানে সরকার স্পষ্ট ও দৃঢ় রয়েছে।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ১৯৫৪ সাল থেকে তিব্বতের কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর হ্রদে তীর্থযাত্রার জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মের অনুসারীরা লিপুলেখ পথটি ব্যবহার করে আসছেন।
ভারতের এক মুখপাত্র বলেন, এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। ভারত বরাবরই বলে আসছে, এ ধরনের দাবি যুক্তিসংগত নয় এবং ঐতিহাসিক কোনো তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। আঞ্চলিক দাবির এমন একতরফা ও কৃত্রিম বিস্তার গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২০ সালের মে মাসে ভারত রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে তিব্বত মালভূমির তীর্থস্থান কৈলাস-মানস সরোবরের দূরত্ব কমাতে ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দীর্ঘ লিপুলেখ সড়ক উদ্বোধন করে। ভারত হিমালয়ের এ সংযোগ সড়ক উদ্বোধন করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল নেপাল।
সে সময় নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘ভারতের পক্ষ থেকে নেপালি ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া লিপুলেখ (নেপাল) সংযোগকারী সড়ক “উদ্বোধন” করার ঘটনায় নেপাল সরকার অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছে।’
এই শাহ-ই কি ‘বৃহৎ নেপাল’-এর মানচিত্র উন্মোচন করেছিলেন
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ অতীতে বর্তমান ভারতের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘বৃহৎ নেপাল’-এর ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন।
২০২৩ সালে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে এমন একটি ‘অখণ্ড ভারত’-এর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। ওই মানচিত্রে ভারত তার অনেক প্রতিবেশী দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এরপর শাহ তাঁর কার্যালয়ে একটি ‘বৃহৎ নেপাল’-এর মানচিত্র ঝুলিয়ে দেন, যাতে এমন কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা একসময় নেপালের ছিল। তবে এখন সেসব এলাকা ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে কোনো মানচিত্রই বর্তমানের সুনির্দিষ্ট সীমান্ত এবং লিপুলেখ বা কালাপানির মতো নামসংবলিত রাজনৈতিক মানচিত্র নয়। বরং অখণ্ড ভারতের ম্যুরাল এবং বৃহৎ নেপালের মানচিত্র—উভয়ই ইতিহাসের সর্বোচ্চ সীমানার ধারণাকে তুলে ধরেছে। এই দুটি মানচিত্রে লিপুলেখ ও কালাপানি ঠিক কোথায় ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
২০২৩ সালের জুনে কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালে শাহ রাজধানীর সিনেমা হলগুলোতে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শন বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে নেপাল মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশনের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত হিন্দি সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ না করার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এরপর সেই মাসের শেষের দিকে সিনেমা প্রদর্শন আবার শুরু হয়।
শাহর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া কী
নেপালের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক কান্তিপুর’ গত রোববার জানিয়েছে, বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বাসনা থাপা শাহর মন্তব্য স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী থাপা বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যহীন বক্তব্য সঠিক না হলে আমি তা সংসদীয় রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার দাবি জানাচ্ছি।’
কান্তিপুরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য রমেশ কুমার মাল্লা প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর মন্তব্যকে ‘দেশের জাতীয় অখণ্ডতার প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভারতে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত নীলাম্বর আচার্য কান্তিপুরকে বলেন, শাহ যা দাবি করেছেন, তা ঠিক নয়। নেপাল কখনোই ভারতের কোনো জমি দখল করেনি।
আচার্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘নেপাল রাষ্ট্র কখনো ভারতের কোনো জমি দখল করেনি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন, বিষয়টি তেমন নয়।’
গত রোববার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শাহর মন্তব্যের জবাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লিপুলেখ গিরিপথ–সংক্রান্ত সীমান্ত বিরোধ কূটনৈতিক মাধ্যম এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে নেপাল ও ভারত—উভয় দেশই ‘তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে’।
কাঠমান্ডুভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সাংবাদিক অনুরাগ আচার্য আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে সরকারের এই ইচ্ছা নতুন বা আশ্চর্যজনক কোনো বিষয় নয়।’
আচার্য ব্যাখ্যা করে বলেন, নেপালের পূর্ববর্তী সরকারগুলোও সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছিল। অলি সরকার এবং ভারত ২০১৬ সালে নেপাল-ভারত সম্পর্ক ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সব দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যৌথ দল (ইপিজি) গঠনে সম্মত হয়েছিল।
আচার্য বলেন, ‘তবে অতীতের মতো এ উদ্যোগেও একইভাবে আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল।’
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহর কথার অর্থ ছিল আইনি সীমানা এবং প্রকৃত ভূমির ব্যবহার বা ‘আন্তসীমান্ত দখল’-এর মধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত ও স্থানীয় অমিল থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নেপালি নাগরিকেরা এমন জমিতে চাষাবাদ বা বসবাস করতে পারেন, যা আইনগতভাবে পুরোনো সীমানা অনুযায়ী ভারতের দিকে পড়েছে। একইভাবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হতে পারে।
নেপালের জন্য এর অর্থ কী
কাঠমান্ডুর রাজনৈতিক বিশ্লেষক আচার্য বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এমন একটি বিষয়ে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এভাবে “হঠাৎ করে মন্তব্য” করা ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নেপালের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে যখন আমরা ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা করব।’
আচার্য আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি এমন এক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, যা নেপালের আলোচকদের বহন করতে হবে। বিশেষ করে যখন তাঁরা এই জটিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবেন।’