কলকাতার আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়
কলকাতার আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়

আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: রায়ে সন্তুষ্ট নয় চিকিৎসকের পরিবার, ক্ষোভ নানা মহলে

কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায়ে ভুক্তভোগীর পরিবার খুশি হয়নি। অসন্তুষ্টি রয়েছে রাজনৈতিক দলসহ নানা মহলেও। আজ মঙ্গলবার রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার চাঞ্চল্যকর ওই মামলার রায়ের দোষী সাব্যস্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আদালত। সঞ্জয় রায়ের ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

এ রায় শুনে সন্তুস্ট হতে পারেনি ধর্ষণ-হত্যকাণ্ডের শিকার নারী চিকিৎসকের মা–বাবা ও জুনিয়র চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলেছেন, জঘন্য এ অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল মৃত্যুদণ্ড।

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এ ঘটনার তদন্ত করে। তাদের দেওয়া চার্জিশিটেও উল্লেখ করা হয়েছিল, এ ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম।

এ দাবি নিয়ে গতকাল বিকেলেই জুনিয়র চিকিৎসক ও অভয়া মঞ্চ শিয়ালদহের আদালত চত্বর থেকে প্রতিবাদ মিছিল করে মৌলালী পর্যন্ত যায়। দাবি তোলে—এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দোষী ব্যক্তিদের বিরদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট দিতে হবে সিবিআইকে।

এদিকে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকারও উচ্চাদালতে যাবে। জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠনও এই একই দাবিতে উচ্চাদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে।
রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের রাজ্য নেতা ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, এটা একটা পৈশাচিক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও চেয়েছিলেন জঘন্য এ অপরাধের শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড। তাই রাজ্য সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এদিকে আর জি কর–কাণ্ডের মূল দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার দাবি করেছে চিকিৎসক–সমাজ। এ দাবিতে আজ কলকাতার হেদুয়ার মোড় থেকে এক প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের আইনজীবী সেঁজুতি চক্রবর্তীও বলেছেন, তাঁরাও আাপিল করবেন এ রায়ের বিরুদ্ধে।

এই রায়ের পর বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এ রায়ে নিহত চিকিৎসকের পরিবার খুশি হতে পারেনি। দোষী ব্যক্তিদের সিবিআইয়ের বের করা উচিত।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, এ রায় মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। সিবিআই এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হোক।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, আর জি কর–কাণ্ডের শুরু থেকে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তদন্তে তার প্রতিফলন ঘটেনি। আসলে গোড়াতেই তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে।

কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভংকর সরকার বলেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের উভয় তদন্তকারী সংস্থা এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।

অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বলেছেন, এটি একটি বিরলতম ঘটনা। সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।

গত ৯ আগস্ট আর জি করের ওই নারী চিকিৎসক রাতে হাসপাতালে ডিউটি করার সময় ধর্ষণের শিকার হয়ে নৃশংসভাবে খুন হন। এই খুনের অপরাধে পুলিশ সঞ্জয় রায় নামের একজন সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে ১০ আগস্ট।