পশ্চিমবঙ্গে ইভিএম নিয়ে ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। ২২ এপ্রিল ২০২৬, দার্জিলিং
পশ্চিমবঙ্গে ইভিএম নিয়ে ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। ২২ এপ্রিল ২০২৬, দার্জিলিং

পশ্চিমবঙ্গে ভোট নয়, এ যেন ‘যুদ্ধের’ প্রস্তুতি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট হতে যাচ্ছে। রাজ্যে রীতিমতো ‘যুদ্ধের মতো’ পরিস্থিতি। ভোট ঘিরে রাজ্যে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন রোজই নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, যা নিয়ে বাংলার সমাজ ও ভোটার স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মেরুকরণ ঘটেছে রাজ্যের রাজনীতিতে।

এ অবস্থায় উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল থেকে দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্রঘেঁষা সমতল—বিধানসভার ২৯২ আসনের মধ্যে ১৬ জেলার ১৫২ আসনে নির্বাচন হতে চলেছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২ আসনে ভোট হবে। ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।

প্রথম দফায় যে রাজ্যের ১৬ জেলায় ভোট হবে, তার মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং ও দার্জিলিং–সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল। এর মধ্যে পড়েছে প্রধানত পাঁচ জেলা—কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও দার্জিলিং। এই পাঁচ জেলায় মোট আসনসংখ্যা ২৭। এই পাঁচ জেলা তৃণমূলের দুর্বলতম জায়গা। সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এই অঞ্চলে ২৭ আসনের মধ্যে মাত্র ৫টি পেয়েছিল।

অন্যদিকে এই অঞ্চলকে বিজেপির দুর্গ বলা যেতে পারে। কারণ, গতবার ২৭ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ২১টি, পাহাড়ের দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিচ্ছিন্ন এক গোষ্ঠী পেয়েছিল একটি আসন।

এবার পরিস্থিতি কী। পাঁচটি জেলায় অবস্থিত চা–বাগানগুলো নিয়ে কাজ করেন ও উত্তর প্রান্তের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করেন রূপম দেব। তাঁর কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, দুই দলেরই কিছু সুবিধা-অসুবিধা আছে।

রূপম বলছিলেন, ‘মানুষের মধ্যে প্রতিবারের মতোই বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জোঁক আছে। কারণ, কলকাতার বিরুদ্ধে সব সময়ই পাহাড়ে বৈষম্যমূলক আচরণের বোধ থাকে। আবার এটাও ঠিক, বিজেপিকে এখানে মানুষ ধারাবাহিকভাবে ভোট দিলেও তারা কী করেছে, কত দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করেছে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি তৃণমূল গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে।

রূপম মনে করেন, ৫ জেলার প্রায় ১০টি চা–বাগানের শ্রমিকদের রোজ মজুরি তৃণমূল অন্তত ৩০ টাকা বৃদ্ধি করলে সেখানকার ভোট তাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। আসামের চা–বাগানে কী হচ্ছে, তার দিকে দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের চা–শ্রমিকেরা নজর রাখেন। আসামে নির্বাচনের আগে চা-শ্রমিকদের ৩০ টাকা মজুরি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল বলছে, নির্বাচনের পর বাড়ানো হবে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ এপ্রিল ২০২৬, পূর্ব মেদিনীপুর

মধ্যবাংলার চিত্র

এরপর আসছে চার জেলা—উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদ। এই অংশকেও অনেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জুড়ে দেন। আবার বোঝানোর সুবিধার্থে অনেকে এই অঞ্চলকে মধ্যবাংলাও বলেন। এই অঞ্চলে তৃণমূল অপেক্ষাকৃত বেশ শক্তিশালী। চার জেলায় মোট ৪৯ আসনের মধ্যে তৃণমূল গতবার জিতেছিল ৩৬টি, বিজেপি জিতেছিল ১১টিতে। দুটিতে ভোট হয়নি।

এই চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২টি আসন মুর্শিদাবাদে। ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম–অধ্যুষিত নবাবের শহর মুর্শিদাবাদে একসময় কংগ্রেস ও বামপন্থীদের রমরমা ছিল। গত নির্বাচনে সেখানে অবিশ্বাস্য ভালো ফল করে তৃণমূল। ২২ আসনের মধ্যে ১৮টি তারা জিতে নেয়। বিজেপি জেতে মাত্র দুটিতে। দুটি আসনে ভোট হয়নি।

মুর্শিদাবাদ ফ্যাক্টর

মুর্শিদাবাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গের বড় এক সংবাদমাধ্যমের প্রবীণ সাংবাদিকের কাছে। তিনি চার দশক ধরে মুর্শিদাবাদে কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সাংবাদিক বললেন, তৃণমূল আগেরবার মুর্শিদাবাদের ২২ আসনের মধ্যে ২০টি পেয়েছিল। এবার আসনসংখ্যা কমার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

ওই সাংবাদিক বলেন, বৃহস্পতিবার যে ১৬ জেলায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি মানুষ বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছেন। এই জেলার ৭০ শতাংশ মুসলিম। এখানে তৃণমূল যেহেতু প্রায় সব কটি আসন জিতেছিল, তাতে বোঝা যায়, ২০২১ সালের নির্বাচনে মুসলিমরা তৃণমূলকে ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন। এই ভোট তৃণমূল না পেলে তাদের সমস্যা বাড়বে। তারা হারাতে পারে বেশ কয়েকটি আসন।

মুর্শিদাবাদে বুধবার ভোর পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জন বাদ পড়েছে। এই হার মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ। এটা বিরাট সংখ্যা। ধরে নেওয়া হচ্ছে, এঁরা তৃণমূলেরই ভোটার। এ কারণে এবার মুর্শিদাবাদে প্রধানমন্ত্রীসহ বিজেপির সব বড় নেতা গেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথকভাবে জনসভা ও মিছিল করেছেন।

নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করছেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২১ এপ্রিল ২০২৬, দার্জিলিং

তবে তৃণমূলের হয়তো একটা সান্ত্বনা আছে, এখানে তৃণমূলকে ভোট না দিলেও বিজেপিকে হয়তো মানুষ ভোট দেবেন না। এ ক্ষেত্রে গতবার কোনো আসন না পাওয়া কংগ্রেসের একটা সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হতে পারে। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে এখানে বড় এক শক্তি।

কংগ্রেসের জাতীয় স্তরের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন বহরমপুর থেকে। অনেকেই আশা করছেন, তাঁর জেতার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুটি প্রধান শহর অঞ্চল বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদে ধর্মীয় মেরুকরণের কারণে বিজেপিরও ওই দুটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন মুর্শিদাবাদের সাংবাদিকেরা।

মধ্যবাংলার পাশের তিন জেলা উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদায় তৃণমূলের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো। তবে মালদায়ও অনেক মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এটাও তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির। মধ্যবাংলার এই অংশে তৃণমূলের ৫ থেকে ১০টি আসন হারানোর সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন অনেকেই।

দক্ষিণবঙ্গের একাংশের অবস্থা কী

এরপর আরও নিচের অংশ অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ভোট হতে চলেছে আগামীকাল। এসব জেলা হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূম। এখানে রয়েছে ৭৬টি আসন।

এই অঞ্চলের ৭৬টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল ৪৯টি আসন পেয়েছিল, বিজেপি পেয়েছিল ২৭টি। গত বিধানসভায় তৃণমূল মোট আসন পেয়েছিল ২১৩। ফলে দেখা যাচ্ছে, তাদের পাওয়া মোট আসনের ২৩ শতাংশ (৪৯ আসন) এসেছে এই অঞ্চলের।

তবে অন্তত তিনটি জেলায় বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর, আদিবাসী অধ্যুষিত এবং ঝাড়খণ্ড–ঘেঁষা রাজ্য পুরুলিয়া এবং এর পাশের বাঁকুড়ায় তৃণমূলকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল বিজেপি। পুরুলিয়ায় নয়টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ছয়টি এবং তৃণমূল তিনটি। বাঁকুড়ায় বিজেপি আটটি এবং তৃণমূল চারটি। বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল নয়টি এবং বিজেপি সাতটি আসন পেয়েছিল।

তৃণমূলের পক্ষে রাস্তায় গানবাজনা করে শিল্পীদের প্রচার। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, কলকাতা

কী বলছেন মানুষ

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মিষ্টির ব্যবসায়ী অনিন্দ্য প্রধান। একসময় তিনি একটা পত্রিকাও বের করতেন। তিনি বললেন, এবার দক্ষিণবঙ্গের এই ৭৬ আসনে বিজেপিকে অনেক বেশি চোখে পড়ছে।

অনিন্দ্য বলেন, বিজেপি এবার অনেক গুছিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। শুভেন্দুর জন্য এই অঞ্চলটা ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। কারণ, অনেকেই মনে করছেন, বিজেপি জিতলে তিনিই হবেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা তাঁর অঞ্চল। এখানে তাঁকে বড় কিছু করতে হবে। ক্ষমতাসীন হিসেবে তৃণমূলের প্রতি বিরোধিতার হাওয়া আছে, যেটা তাদের বিপদে ফেলতে পারে।

অনিন্দ্য বলছিলেন, ‘ভেতরে-ভেতরে এবার এই অঞ্চলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) অনেক সক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। কাজের সূত্রে আমাকে গোটা অঞ্চল ঘুরতে হয়, বিশেষ করে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়।’

অনিন্দ্য বলেন, ‘এই আদিবাসী অরণ্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আরএসএস। তারা সেখানে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল ভালো ফল করতে পারছে না। এবার দেখছি পূর্ব–পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বর্ধমানেও বিভিন্ন বাড়িতে স্থানীয় মানুষকে নিয়ে আরএসএসের বৈঠক হচ্ছে। এটা কিন্তু একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।’

আরেক সাংবাদিক জানালেন, আরএসএসের ধর্মীয় শাখা বিশ্ব হিন্দু পরিষদও যথেষ্ট সক্রিয়। তারা বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু এবং মন্দিরে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। ধর্মীয় গুরুদের দিয়ে তাদের শিষ্যদের অনুরোধ করছে বিজেপিকে ভোট দিতে। এসবই তৃণমূলকে চাপে রাখছে।

‘ভোটযুদ্ধের’ সামরিক প্রস্তুতি

এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তা স্বাধীনতার পর কখনো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতার পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’।

এর অর্থ, মোটামুটিভাবে আড়াই লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রথম দফার নির্বাচনে নির্বাচনী কেন্দ্র এবং বুথে থাকবে। দ্বিতীয় দফায় যখন তৃণমূলের গড় অঞ্চলে ভোট হবে, তখন এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।

টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মণিপুরে সাম্প্রতিক সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে ২৮৮ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে করা হয়েছে এর সাড়ে আট গুণ বেশি। মণিপুরের সংঘাতে আড়াই শ-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন।

মধ্য ভারতের বস্তার অঞ্চলে মাওবাদীরা যখন তাদের ক্ষমতার শীর্ষে অর্থাৎ ২০১৩ সালে, তখন সেখানে নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন এই প্রতিবেদক। সে সময় সেখানে ৬০০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গে করা হয়েছে তার চার গুণ।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। ১৩ এপ্রিল ২০২৬, কলকাতা

অবশ্য বস্তারে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক কম। তবু এটা বলা যায়, সেটি ছিল একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা। পশ্চিমবঙ্গ এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সংঘাতের মধ্যে নেই।

এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বেশ কিছু আসন হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে বুঝেই হয়তো সেখানে বিপুল পরিমাণ আধা সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনী পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৫২টি বিধানসভা আসনের জন্য মোট ২ হাজার ১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকবে মুর্শিদাবাদে। সেখানে থাকবে ২৮৮টি কুইক রেসপন্স টিম। এরপরই সবচেয়ে বেশি এ ধরনের বাহিনী থাকবে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে, ২৫৩টি। এ ছাড়া আরও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার ফলে মানুষ মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এবারের ভোট অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা।

পরিস্থিতি দেখে সুদূর মুম্বাই থেকে মহারাষ্ট্রের একসময়ের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সদস্য ও শিবসেনা দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঘিনীর মতো লড়ছেন। কিন্তু দেখেশুনে যা মনে হচ্ছে, তাতে নির্বাচনের দিনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের থেকে বেশি নিরাপত্তাকর্মী থাকবে। এ অবস্থায় কীভাবে ভোটাররা বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্ভয়ে ভোট দেবেন, সেটা আমার প্রশ্ন।’

এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন প্রথম দফার ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটারেরও।